প্রতিটি
ঘরেই তাদের সদ্যোজাত নবজাতক কত আকাঙ্ক্ষিত ধন। বাড়িতে নতুন অতিথির আগমনে
সবার মনে অনেক আনন্দ বিরাজ করে। এর মধ্যে আবার শঙ্কাও বিরাজ করে। নবজাতকের
সঠিক যত্ন আত্তি হচ্ছে তো? আমরা আজকে একজন শিশু বিশেশজ্ঞর সঙ্গে কথা বলে
আপনাদের দিচ্ছি কিছু দিক নির্দেশনা।
Showing posts with label Children Health Tips. Show all posts
Showing posts with label Children Health Tips. Show all posts
Sunday, April 15, 2018
নবজাতক শিশুর যত্ন নিন এবং সুরক্ষিত রাখুন
প্রতিটি
ঘরেই তাদের সদ্যোজাত নবজাতক কত আকাঙ্ক্ষিত ধন। বাড়িতে নতুন অতিথির আগমনে
সবার মনে অনেক আনন্দ বিরাজ করে। এর মধ্যে আবার শঙ্কাও বিরাজ করে। নবজাতকের
সঠিক যত্ন আত্তি হচ্ছে তো? আমরা আজকে একজন শিশু বিশেশজ্ঞর সঙ্গে কথা বলে
আপনাদের দিচ্ছি কিছু দিক নির্দেশনা।
* সদ্যোজাত শিশুকে মায়ের দুধ খেতে দিন
* নবজাতকের গোসল করান। অবশ্যই জন্মের ৩ দিন পর
* শিশুর নাভির যত্ন নিন
* নবজাতকের চুল কাটুন
* তার চোখের যত্ন নিন , ত্বকের যত্ন নিন।
* সময়মতো সব টিকা দিন।
* শিশু জন্মের পর শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া
* জন্মের পর শিশুর না কাঁদা
* মাঝে মাঝে খিঁচুনি হওয়া
* শিশুর অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
* শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া
* শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া
* শরীর হলুদ রঙ ধারন করা
*নাভিতে অনেক দুর্গন্ধ বা পুঁজ জমা হয়ে থাকা
* অনবরত বমি করা
* স্বাভাবিকের চেয়ে শিশুর নড়াচড়া কম হওয়া
* শিশু অনেক দুর্বল, যেমন কাঁদতে কষ্ট হওয়া, কিছুক্ষণ পরপর নেতিয়ে পরা
* পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে শিশুর সম্পূর্ণ শরীর খুব ভালো করে মুছুন।
* নাকে, মুখে, কানে কালচে সবুজ পায়খানা লেগে থাকলে আলতভাবে আঙুলে কাপড় পেঁচিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।
* শিশুকে কাত করে ধরে পিঠের মেরুদণ্ড বরাবর নিচ থেকে ওপর দিকে বারবার হাতের তালুর নিচের অংশ দিয়ে ঘষুন।
* শিশুর শরীরের রং এবং শ্বাসপ্রশ্বাস এর
দিকে লক্ষ করুন। যদি শিশুর ঠোঁট, জিহবা সহ সমগ্র মুখের রং গোলাপি হয় এবং
নিয়মিত শ্বাস নেয় তাহলে শিশুকে বুকের দুধ দিন।
* পা ধরে মাথা নিচের দিকে দিয়ে উল্টো করে নবজাতককে ঝোলাবেন না
* তাকে শরীরের কোন জায়গায় আঘাত করবেন না
* শিশুর শরীরে ঠাণ্ডা পানির ছিটে দিবেন না
* কানে বা নাকে ফুঁ দিবেন না
* শিশুর বুকের খাঁচায় চাপ দিবেন না
* গর্ভফুলের জন্য অপেক্ষা করতে করতে নবজাতককে ফেলে রাখবেন না
* মধু বা চিনির পানি খাওয়াবেন না
কখনো কোন অবস্থাতেই খুব বেশী পরিমাণে
পাউডার বা তেল আপনার শিশুর ত্বকে ব্যবহার করবেন না, যা শিশুর কোমল ত্বকের
জন্য ক্ষতিকর। প্রয়োজনের চেয়ে বেশী পাউডার ব্যবহার করার ফলে শিশুর ত্বকের
লোমমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং শারীরিক প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়। এতে
শিশুর ঘামাচি ও র্যাশ হতে পারে। অতিরিক্ত রোদে নবজাতক শিশুকে নিয়ে বের
হবেন না কখনো। নবজাতকের সামনে হাঁচি-কাশি দিবেন না। শিশুকে ঠাণ্ডা ও
আরামদায়ক পরিবেশে রাখবেন। শরীর ঘেমে গেলে বারবার শুকনো নরম কাপড় দিয়ে খুব
আলতোভাবে গা মুছে দিন।শিশুকে অবশ্যই সুতি ও নরম আরামদায়ক পোশাক পড়াবেন।
নবজাতক শিশুর মাকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে দিন। এতে
মায়ের বুকের দুধ থেকে শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে।
শিশুকে সুতি কাপড় পরিয়ে নরম কাঁথা দিয়ে
মুড়িয়ে রাখুন। বেশী শীতে সোয়েটার ব্যবহার করুন। শিশুর ত্বকে বেবি অয়েল বা
লোশন ব্যবহার করুন। দিনের বেলা ঘরের দরজা জানালা সব খুলে দিন যাতে করে রোদ
ও নির্মল বাতাস ঘরে ঢুকতে পারে।
শিশুর জামা কাপড় ঘরের মধ্যে না শুকিয়ে
অবশ্যই রোদে শুকাবেন। শিশুকে রাতে শোয়ার সময় ডায়াপার পরিয়ে শোয়ান। শিশুকে
কখনো আলাদা দোলনায় রাখবেন না। তাকে বাবা মায়ের সাথে নিয়ে ঘুমাবেন। এতে
শিশু উষ্ণ থাকবে, বাবা মায়ের সঙ্গে আন্তরিকতা বাড়বে এবং মায়ের বুকের দুধ
খাওয়াতে সুবিধা হবে। শিশুকে ঘরের বাইরে না নেওয়ার চেষ্টা করুন। রোদে দিতে
হলে ঘরের জানালার পাশে শুইয়ে বা ঘরের বারান্দায় বিছানা পেতে রোদ লাগান।
কাশি হলে, শ্বাস টানতে শব্দ করলে, দুধ টেনে খেতে না পারলে, শিশুর
নিঃশ্বাসের সঙ্গে পাঁজর বেঁকে যেতে থাকলে অতিদ্রুত চিকিৎসকের পরামরশ নিন।
এমন অনেক ছোট ছোট বিষয় আছে যেগুলো খেয়াল করলে আপনি আপনার আদরের সোনামণিকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
আপনার শিশুর দাঁত ও মাড়ির যত্ন নিন

শিশু বয়স থেকেই থেকেই দাঁত ও মাড়ির প্রয়োজনীয় যত্ন খুব জরুরী। শিশুর যে কোন ভালো খারাপ সব কিছুর জন্য বাবা মায়ের যত্ন অবহেলাই বেশীরভাগ সময় দায়ী। অনেক সময় বাবা মায়ের অভ্যাস শিশুদের মধ্যে প্রভাব পড়ে। শিশুর সাথে সাথে তাই আপনাকেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। আমাদের আজকের লেখায় রয়েছে আপনার এবং আপনার শিশুর জন্য কিছু দরকারি টিপস।
শিশুর আগে নিজেরা সতর্ক হোনঃ
বাবা মা নিজেরা তাদের দাঁতের যত্ন না নিলে
নিজেদের মাধ্যমে শিশুর দাঁতে সংক্রমণ হতে পারে। তাদের দাঁতের জীবাণু
দ্বারা শিশুর দাঁতেও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হতে পারে। তাই মা-বাবা দু’জনেরই
কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ মেনে চলা উচিত্।
১। আপনার শিশুর ভালোর জন্য সিগারেট বা নিকোটিনযুক্ত যে কোন ধরনের নেশা পরিত্যাগ করুন।
২। বাবা-মা দুজনেরই সঠিক পদ্ধতি মেনে দাঁত
ব্রাশ করা উচিত্। যদি বিজ্ঞান্সম্মত পদ্ধতি না জানা থাকে তা হলে স্বাস্থ্য
বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে ভাল করে বুঝে নিন।
৩। গর্ভবতী মায়ের যদি দাঁতে ব্যথা হয় তা
হলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কোন ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না। এতে আপনার
গর্ভস্থ শিশুর প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারে।
৪। ছোট বাচ্চার মুখে মুখ লাগিয়ে আদর করবেন না। এতে আপনার মুখের ব্যাকটেরিয়া শিশুর মুখে সংক্রমিত হতে পারে।
সদ্যোজাত শিশুর দাঁত ও মাড়ির যত্ন নিনঃ
১। জন্মের পর থেকেই শুরু করে দিন শিশুর মাড়ির যত্ন। খুব নরম কাপড় আঙ্গুলে জড়িয়ে খুব সাবধানে শিশুর মাড়ি পরিস্কার করুন।
২। লক্ষ করুন শিশুর মুখে কোন দুর্গন্ধ আছে কিনা তাহলে বুঝতে হবে যে মাড়িতে কোন সংক্রমণ ঘটেছে।
৩। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আপনি সতর্ক থাকুন। খেয়াল রাখুন আপনার স্তন এবং হাত যেন পরিস্কার থাকে।
৪। জন্মানোর পর থেকে যতদিন বুকের দুধ না
ছাড়ে সে পর্যন্ত বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করুন। দুধের স্তর মাড়িতে শুকিয়ে
শিশুর মাড়িতে ইনফেকশান হয়ে যেতে পারে। তাই নরম কাপড় দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার
করা উচিত্।
শিশুর শৈশবকালীন এবং বয়ঃসন্ধির সময়ে দাঁত ও মাড়ির যত্ন ঃ
১। শিশু কথা বলা শুরু করলে ওরাল ক্রিম দিয়ে শিশুর মাড়ি মাসাজ করুন। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাসাজ ক্রিম ব্যবহার করুন।
২। শিশুর দুধের দাত উঠতে শুরু করলে সব
কিছুতেই কামড়ানোর চেষ্টা করে। তাই সংক্রমণের ভয় থাকে আরও বেশী। এই সময়
শিশুদের মাড়ির উপযোগী নরম ব্রাশ দিয়ে ধীরে ধীরে ব্রাশ করানো শুরু করুন।
৩। ছোটবেলা থেকেই আপনার শিশুকে নিয়ম করে দিনে ২ বার সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এবং রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে ব্রাশ করা শিখান।
৪। প্রতিদিন মাউথ ওয়াশ এবং ফ্লশিং করা ছোট বেলা থেকেই সেখানো উচিত্।
৫। যে সব শিশুরা একটু বেশি বয়স পর্যন্ত
মায়ের দুধ খায় তাদের দাঁতে ক্যারিজ হতে পারে। এই দাঁত গুলো তুলে না ফেলে
সঠিক চিকিৎসা করার চেষ্টা করতে হবে। কারণ তুলে ফেললে পরে আবার দাঁত উঠার
সময় অসুবিধা হয়।
৬। চকলেট অথবা চিনিজাতীয় খাবার খেয়ে মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা শিখান আপনার শিশুকে।
শুরু থেকেই যত্নশীল ও সতর্কবান হোন আপনার শিশুর প্রতি। সুস্থ শিশুর নির্মল হাসিতে ভরে উঠুক আপনার মন।
আপনার সন্তানকে দেখে রাখুন কৌশলে

প্রত্যেক মাতা পিতার গর্ব হচ্ছে তার সন্তান। প্রত্যেক মা বাবাই চান তার সন্তান পড়াশুনা করুক মানুষের মত মানুষ হোক। গরীব ধনী সবাই তার সন্তানকে নিয়ে গর্ব করতে চায়। আপনার সন্তানকে দেখে রাখুন। আপনার সন্তান সবসময় আপনার চোখের নাগালে থাকবে না। স্কুলে যাবে, খেলতে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আপনিও ব্যাস্ত থাকবেন আপনার কাজে। যদি আপনার সন্তানের কোন দোষ পান তাহলে বসে থাকবেন না, দেখেও না দেখার ভান করবেন না। তাহলে আপনার প্রশ্রয় পেয়ে পেয়ে সে একদিন অনেক বড় অপরাধের সাথে জড়িয়ে পরতে পারে। সর্বদাই সন্তানকে শাসন করা যাবে না, তবে কিছু সময় তাকে শাসন করুন। অনেক মাতা-পিতাকে একটু বেশি খবরদারি করতে দেখা যায়, তাদের সন্তানকে অনেক বেশি সন্দেহ করে থাকে, এটি কিন্তু সঠিক উপায় নয়। চলুন জেনে নেই সন্তানের প্রতি আপনার ব্যাবহার কেমন হওয়া উচিত?
১। আপনার সন্তানকে বিশ্বাস করুন,
তার কাজের উপর বিশ্বাস রাখুন, যদি আপনি আপনার সন্তানের উপর বিশ্বাস না
রাখেন তাহলে আপনার সন্তান মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরতে পারে। আর যখন মানসিকভাবে
ভেঙ্গে পরবে তখন এটি তাকে বড় কোন অপরাধের কাছে নিয়ে যাবে।
২। আপনার সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলুন।
“তোমাকে দিয়ে এসব হবে না”, “তোমার দ্বারা এটি সম্ভব না”, “এই কাজ তুমি
করতে পারবে না” এসব কথা বলে তার মনে আঘাত দেবেন না। তাহলে সে যেকোনো কাজের
প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। আপনার উচিত তাঁকে উৎসাহ দেয়া। যে তুমি কর,
তুমি পারবে, তুমি না পারলে কেউ পারবে না। তাহলে সে অনেক বেশি উৎসাহ পাবে,
কাজের প্রতি মনোযোগ বারবে।
৩। আপনার সন্তানকে অতিরিক্ত চাপে রাখবেন না।
ও ফাস্ট হয়েছে তুমি হতে পারো নি কেন? অমুক মেডিকেল এ চান্স পেয়েছে তুমি
পাওনি কেন? এসব কি করতেছ? এসব ভালর চেয়ে খারাপ বয়ে আনবে। সর্বদাই তাঁকে
চাপমুক্ত রাখুন।
৪। আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে খেয়াল রাখুন। আপনার সন্তান কাদের কাদের সাথে মিশে খোজ নিন।
৫। মাদককে না বলুন আপনার সন্তানকে না বলতে শেখান। আপনি নিজে সচেতন হন তারপর আপনার সন্তানকে সচেতন করুন। মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তার সামনে তুলে ধরুন।
৬। জেনে নিন আপনার সন্তান কি হতে চায় কি করতে চায়। সে যা হতে চায় তাঁকে তাই হতে দিন, সে শিক্ষক হতে চাইলে তাঁকে শিক্ষক হতে দিন। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনোকিছু চাপিয়ে দেবেন না।
৭। আপনার সন্তানকে ভয় দেখান থেকে বিরত থাকুন। তাকে কোন প্রকার ভয় দেখাবেন না।
৮। মাঝে মাঝে একটু একটু শাসন করুন।
সন্তানকে যেমন ভালবাসা যায় তেমনি শাসনও করা যায়। তাই করুন। মাত্রাতিরিক্ত
শাসন থেকে বিরত থাকুন। কোন অপরাধ পেলে হালকা শাসন করুন তাকে ভালভাবে বুঝান।
আবার মাত্রাতিরিক্ত আদরে রাখবেন না। বেশি আদর পেলে বাদর হওয়ার সম্ভাবনা
থাকতে পারে।
৯। আপনি আপনার সন্তানের বেয়াদবিকে প্রশ্রয় দেবেন না। তাকে ধরিয়ে দিন যে এটি ভাল না। বুঝিয়ে বলুন।
১০। দুই সন্তান যদি থাকে উভয়কে সমান নজরে রাখুন।
একচোখা হবেন না। একজনের সাথে অপরজনের তুলনা করবেন না। তাদেরকে নিজের মত
করে চলতে দিন। তাদেরকে কোনকিছুতে কম বেশি করবেন না। উভয়কে সমান আদর করুন।
এতে করে তাদের মন চাঙ্গা থাকবে।
লেখাটি ভাল লাগলে আপনার পরিচিত বা আপন
মানুষদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু। আপনার শেয়ারে কোন না কোন
পরিবার উপকৃত হতে পারে। ……ধন্যবাদ সবাইকে…।।
আপনার শিশুকে ৭ টি নৈতিক শিক্ষা দিচ্ছেন তো?
আপনার শিশুকে ৭ টি নৈতিক শিক্ষা দিচ্ছেন তো?
in
শিশুকাল হল নৈতিকতা আর মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ বয়সে শিশু যে শিক্ষাটি পেয়ে থাকে সেটি তার সারাজীবনে পথ চলার পাথেয়। নৈতিকতা, মূল্যবোধ এর শিক্ষাগুলো সারাজীবনের পথ চলা সহজ করে দেয়। শিশুর ৫ বছর বয়স থেকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। আপনার আদরের সোনামণিকে শিক্ষা দিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা।
সততাঃ
সাধারনত এই বয়সী শিশুরা খুব দ্রুত মিথ্যা কথা বলা শিখে। বকা খাওয়া বা মারধোরের হাত থেকে বাঁচতে কোন অপরাধ করলেও মিথ্যা কথা বলে। এই সব ছোট ছোট মিথ্যা বলতে বলতে এক সময় মিথ্যা কথা বলা স্বভাবে পরিণত হতে থাকে। এই জন্যে শিশু বয়সেই সত্য কথা বলার অভ্যাস করুন। শিশু কোন অন্যায় বা ভুলে করলে কথায় কথায় বকা দিবেন না বা তার গায়ে হাত তুলবেন না। এতে সে আপনার কাছ থেকে বাঁচার জন্য মিথ্যা বলবে। তাকে বুঝিয়ে বলুন যে সে যা করছে ভুল করছে। বাড়ীর বড়রা কখনো শিশুর সামনে মিথ্যা কথা বলবেন না।
ন্যায় বিচারঃ
আপনি ভাবছেন যে এ আর কি এমন বয়স যে ন্যায় বিচার শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু এই বয়সটাই তো শিখার বয়স। এখন না হলে পরে আর হবে না। এখন থেকেই আপনি আপনার শিশুকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিন কোনটি ভাল আর কোনটি মন্দ।
সম্মানঃ
নম্রতাঃ
নম্রতা জীবনে চলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটাকে হালকা করে দেখার কিছু নেই। খেয়াল রাখুন আপনার শিশু যেন খুব অল্পতেই রেগে না যায়। ধৈর্য রাখতে শিক্ষা দিন। আবার কোন সাফল্য পেলে যেন অহংকার না করে। তাকে নম্র হতে শিক্ষা দিন। দুঃখী মানুষের কষ্টে তার পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিন, সে যেন মানুষের কষ্ট দেখে খুশী না হয়।
দায়িত্ববোধঃ
শিশুকে তার দায়িত্ববোধ এর শিক্ষা দিন। নিজের কাজ নিজে করতে শিখান। নিজের খেলনা নিজেকে গুছিয়ে রাখতে হবে, নিজের দাঁত নিজে ব্রাশ করতে হবে, ছোট ভাই-বোন টির খেয়াল রাখতে হবে এগুল তাকে শিক্ষা দিন। এসব ছোট খাটো কাজ শিশুর মাঝে দায়িত্ববোধ জাগ্রত
ধৈর্যঃ
জীবনে সাফল্য পেতে গেলে ধৈর্য ধারণ করতেই হবে। এর বিকল্প কিছু হতে পারে না। আপনার শিশুটির মাঝে ধৈর্য ধারণ করার অভ্যাস করুন। কোন কাজে সাফল্য না আসলে হতাশ হতে বারণ করুন। ধৈর্য ধরে আবার চেষ্টা করতে বলুন।
ভালোবাসাঃ
শুধু বাবা, মা বা পরিবার এর সকল সদস্যের জন্য ভালোবাসা নয়। ছোট বড়, ধনী গরিব, পশু পাখি সবাইকে ভালবাসতে শিখান আপনার শিশুকে। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদেরকে ভালবাসতে শিখান।
খেয়াল রাখুন আপনার শিশুর প্রতি। তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠে।
শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু স্বাস্থ্য টিপস

কত অপেক্ষা সন্তানের জন্য বাবা মায়ের। তারপর একদিন সন্তান পৃথিবীতে আসে। পৃথিবীতে আসার পর বাবা মায়ের দায়িত্ব আরো বেড়ে যায়। কারণ একটাই তা হল সন্তানকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। প্রত্যেক বাবা-মা ই চান তার সন্তানের যেন সঠিক মানসিক বিকাশ ঘটে। শিশু বয়স থেকেই সন্তানের সুস্থতার জন্য অনেক নিয়ম কানুন বাবা-মাকে মেনে চলতে হয়। কারণ বাবা মা এর একটুখানি অসাবধানতা সন্তানকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে এমনকি জীবন বিপন্ন হতে পারে। আপনার ছোট্ট সোনামণির জন্য খুবই দরকারি কিছু টিপস আমরা আজকে আপনাকে দিব।
১। ভুল করেও আপনার সদ্যোজাত নবজাতক শিশুকে
বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু খেতে দিবেন না। অনেকে পানি, মধু, চিনির পানি বা
মিসরির পানি খেতে দেন না জেনেই। এটার প্রভাব তাৎক্ষণিক ভাবেই পড়তে পারে
আপনার শিশুর উপর।
২। শিশু জন্মের পর প্রথম তিন দিন পর্যন্ত শিশুকে গোসল করাবেন না।
৩। শিশু যদি না খেতে চায় তাকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না।
৪। শিশুকে কখনোই একা একা উঁচু স্থানে বসিয়ে রেখে আপনি দূরে কোথাও যাবেন না।
৫। গোসল করিয়ে সাথে সাথে শিশুর শরীরে তেল লাগাবেন না। বরং গোসলের আগে তেল ব্যবহার করতে পারেন।
৬। প্রথম ৬ মাস শিশুকে বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু খেতে দিবেন না।
৭। শিশু কান্না করলে তাকে শান্ত রাখার জন্য মুখে চুষনি দিবেন না।
৮। রাতে ঘুমের মধ্যে বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোন খাবার শিশুর মুখে দুধ দেবেন না।
৯। অনেকের ধারণা জ্বর হলে মোটা
কাঁথা-কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখলে জ্বর কমে যাবে। ভুলেও এ কাজ করবেন না। শিশু
যেভাবে আরাম বোধ করে সেভাবে রাখুন।

১০। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে স্যালাইন এর পাশাপাশি সব খাবার দিবেন শিশুকে। কোন খাবার বন্ধ করবেন না।
১১। কখনোই অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে শিশুর উপর চাপ সৃষ্টি করবেন না।
১২। আপনার শিশুকে বাইরের কোন খাবার, দীর্ঘ দিনের ফ্রিজের খাবার বা বাসি খাবার দেবেন না।নিজে হাতে তৈরি করুন তার খাবার।
১৩। শিশু যতদিন না নিজে নিজে হাঁটতে পারে ততদিন শিশুকে ওয়াকার দিয়ে হাঁটানোর চেষ্টা করবেন না।
১৪। শিশুর যদি শ্বাস কষ্টের জন্য ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে তাকে কখনোই ঘুমের ওষুধ দিবেন না।
১৫ অনেকের ধারনা কলা, কমলা ও অন্যান্য
ফলমূল খেলে শিশুর ঠাণ্ডা লাগে বা বেড়ে যায়। এ ধারণা মোটেও ঠিক নয়। সব ফলমূল
খেতে দিন আপনার শিশুকে।
১৬। না ধুয়ে কোন ফল খাওয়াবেন না শিশুকে।
১৭। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে শিশুকে কখনো কোন ওষুধ খাওয়াবেন না।
১৮। শিশু না খেলে বা দুষ্টমি করলে কখনো তাকে ভয় দেখাবেন না। এতে আপনার শিশুর মানসিক সমস্যা হতে পারে।
১৯। শিশুকে কখনো মারবেন না, সে কোন খারাপ কিছু করলে তাকে বুঝিয়ে বলুন।
২০। শিশুর সামনে বসে কখনো ধূমপান করবেন না।
২১। শিশুকে সাথে নিয়ে কোন ধরনের ভয়ের সিনেমা বা নাটক দেখবেন না।
২২। রান্নাঘর বা টয়লেটে একা একা আপনার শিশুকে যেতে দিবেন না।
২৩। কোন ধরনের ধারালো জিনিস যেমন সুই, কাঁচি, ছুরি এগুলো শিশুর সামনে রাখবেন না।
২৪। সমস্যা খুব গুরুতর না হলে শিশুর এক্সরে করবেন না।
২৫। সবরকম ওষুধ শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশুকে নিরাপদে রাখতে মেনে চলুন সব ধরনের সতর্কতা। ভালো থাকুক আপনার সোনামণি। হাসি থাকুক আপনার মুখে সবসময়।












নবজাতক শিশুর গরমে যত্নঃ 

















