https://ganbichchitra.blogspot.com/google785737830bcedd5c.htm www.ganbichchitra.blogspot.com: Google Adsense Tutorial

জ্ঞান বিচিত্রা জ্ঞানের আলো,জ্ঞানের সন্ধানে সবাই চলো

AD BANNER
IT World Bangla

রাগ হল এমন একটি বাতাস যা বিবেকের প্রদীপ নিভিয়ে দেয়

মুক্ত বিশ্বাস হচ্ছে সকল সাফল্য, সকল অর্জনের ভিত্তি। বিশ্বাসই রোগ নিরাময় করে, মেধাকে বিকশিত করে, যোগ্যতাকে কাজে লাগায়, দক্ষতা সৃষ্টি করে। ব্যর্থতাকে সাফল্যে আর অশান্তিকে প্রশান্তিতে রূপান্তরিত করে।

আপনার জীবনের চিন্তাভাবনাকে বদলে দিতে পারে

নিয়ত বা অভিপ্রায় হচ্ছে মনের লাগাম। নিয়ত মনকে নিয়ন্ত্রন করে, দেহকে সঠিক পথে পরিচালিত করে, দেহ-মনে নতুন বাস্তবতার জন্ম দেয়

আপনার জীবনের চিন্তাভাবনাকে বদলে দিতে পারে

ব্যক্তিগত খেয়াল বা আবেগ আর জীবনের লক্ষ্যকে এক করে ফেলবেন না। লক্ষ্যকে যখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন তখন তা আপনাব্যর্থরা অবচেতনভাবে ব্যর্থতার সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করে। সচেতনভাবে সাফল্যের সঙ্গে একাত্ম হলে সহপাঠী বা প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক আর বন্ধুত্ব এক নয়। চেতনা ও আদর্শের মিল রয়েছে এমন কারো সঙ্গেই বন্ধুত্ব হতে পারে।সাফল্যই আপনার দিকে আকৃষ্ট হবে।কে আবেগের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাবে

Banga Bandu Bridge

“ মা হল পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক, যেখানে আমরা আমাদের সব দুঃখ, কষ্ট জমা রাখি এবং বিনিময়ে নেই বিনাসূদে অকৃত্রিম ভালোবাসা ”


Showing posts with label Google Adsense Tutorial. Show all posts
Showing posts with label Google Adsense Tutorial. Show all posts

Friday, April 27, 2018

Google AdSense কি এবং কিভাবে কাজ করে?

Google AdSense কি এ বিষয় নিয়ে নতুন করে লিখার কিছু নেই, তবে কিভাবে কাজ করে এ বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার নয়। এ পোষ্টটি লিখার আগে আমি বেশ কয়েকবার চিন্তা করেছিলাম যে, পোষ্টটি লিখব কি না? কারণ Google AdSense কি এ বিষয় সবাই জানে। তারপরও আমি প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করলাম, কারণ Google AdSense নিয়ে কয়েকটি Series পোষ্ট লিখব। Google AdSense কি, কিভাবে কাজ করে, কিভাবে অনুমোদন করতে হয়, কিভাবে বেশী আয় করা যায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পোষ্ট করব। আশাকরি আমাদের সাথে যারা থাকবেন তারা Google AdSense বিষয়ে সকল নাড়ী-ভূড়ী নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
Google AdSense কি এবং কিভাবে কাজ করে?
অন-লাইন হতে টাকা আয় করার যত প্রন্থা আছে তার মধ্যে Google AdSense নিঃসন্দেহে সাবার শীর্ষে অবস্থান করছে। সব ধরনের ব্লগারই তাদের ব্লগে Google AdSense বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে চায়। কারণ AdSense এর আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের সাইজ এবং ডিজাইনের কারণে এটিকে সবাই পছন্দ করে। তাছাড়া Google AdSense হতে অর্জিত টাকা গুগল খুব বিশ্বস্ততার সাথে পরিশোধ করে। এ সব কারনে Google AdSense সবার শীর্ষে অবস্থান করছে।

সকল পোষ্ট দেখুন
  • Google AdSense কিঃ সবাই নিশ্চয় জাননে যে, Google AdSense হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা যেটি গুগল নিজে পরিচালনা করছে। গুগল বিভিন্ন কোম্পানির কাছে অর্থের বিনিময়ে তাদের আওতাধীন যত ওয়েবসাইট আছে যেসগুলিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আয় করে। গুগল AdSense বিজ্ঞাপন থেকে যত টাকা আয় করে তার ৬৮ ভাগ টাকাই দিয়ে থাকে পাবলিশারদের এবং বাকী ৩২ ভাগ টাকা নিজেরা ভোগ করে। গুগল AdSense সাধারণত বিভিন্ন ধরনের Text এবং Image আকারে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে। এ সব বিজ্ঞাপনে Per-Click এবং Per-Impression হিসেব করে পাবলিশারদের টাকা প্রদান করে থাকে। গুগল যত টাকা উপার্জন করে তার প্রায় ২৭ ভাগ আসে Google AdSense থেকে।
  • কিভাবে Google AdSense কাজ করেঃ Google AdSense এর একটি বিশালাকারে শাখা এবং ডেভেলপার টিম রয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত এটিকে দিনে পর দিন ভাল অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। গুগল সাধারণত প্রথমে একটি সাইটের যাবতীয় তথ্য এবং Cookies সংগ্রহ করে। তারপর বিশেষ পোগ্রামিং এবং JavaScript এর মাধ্যমে কনটেন্ট এর উপর ডিপেন্ড করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে। এ সব বিজ্ঞাপন পাবলিশারদের দুটি উপায়ে আয় করার সুযোগ দেয়। কিছু ওয়েবসাইটের জন্য কেবল যারা ঐ সাইটটি অপেন করে বিজ্ঞাপন দেখে এবং কিছু ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মাধ্যমে রেট ভিত্তিক টাকা প্রদান করে থাকে। তবে প্রত্যেকটি ব্লগ/ওয়েবসাইটের র‌্যাংকিং এর উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা বিজ্ঞাপন দেখার এবং ক্লিক রেটও রয়েছে। তাছাড়া বিজ্ঞাপনের সাইজ ও ধরণ অনুযায়ীও বিজ্ঞাপনের ক্লিক রেট ভিন্ন হয়ে থাকে।
  • AdSense বিজ্ঞাপন ভিন্ন হয় কেনঃ আমি আগেই বলেছি গুগল AdSense এর বিজ্ঞাপন বিশেষ কিছু পোগ্রামিং এর মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়, যাতেকরে এটি যে কোন সাইটকেই দেখতে আকর্ষীয় করে তুলে। তাছাড়া এটি কোন ওয়েবসাইটের লোড টাইমের উপরও কোন প্রভাব ফেলবে না। যখন কোন ভিজিটর ব্লগের কোন একটি পোষ্ট ভিজিট করে, তখন সাথে সাথে গুগল AdSense ‍Scripts সমস্ত পোষ্টের কনটেন্ট স্ক্যান করে নেয় এবং কনটেন্টের সাথে মিল রেখে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। অধীকন্তু কোন্ দেশ হতে সাইট ভিজিট করা হচ্ছে সেটিও জেনে নিয়ে ঐ দেশ এবং এলাকা ভিত্তিকও বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। যার দরুন দেখা যায় বাংলাদেশ থেকে ভিজিট করার পর গুগল AdSense বাংলাদেশের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন শো করছে। আপনি যখন কোন সাইট ভারত থেকে ভিজিটর করবেন তখন গুগল AdSense ভারতের বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাবে।
শেষ কথাঃ উপরের বিশেষ গুনের কারনে গুগল AdSense বিজ্ঞাপন দাতা এবং পাবলিশারদের মন জয় করে নিয়ে সাবার শীর্ষে অবস্থান করছে। কারণ এলাকা ভিত্তিক বিজ্ঞাপন শো করার কারনে বিজ্ঞাপন দাতাদের বিশেষ সুবিধা হয়। অন্যদিকে যারা ব্লগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেন তাদের সাইটে কোন প্রকার লোড টাইমের প্রভাব না করার কারনে তারাও পছন্দ করে। তাছাড়াও গুগল AdSense হতে উপার্জিত টাকা বিশ্বস্তাতার সাথে পরিশোধ করার কারনে সকল ধরনের বিজ্ঞাপনী সংস্থার শীর্ষে রয়েছে। আপনিও ইচ্ছে করলে খুবই সহজে গুগল AdSense থেকে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

Google AdSense এ Apply করার আগে যে ১০ টি কাজ আবশ্যক!

গত পোষ্টে আমরা শেয়ার করেছিলাম Google AdSense কি এবং কিভাবে কাজ করে? Google AdSense নিয়ে কয়েকটি Series পোষ্ট করার কথা ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের সাথে আরেকটি পোষ্ট শেয়ার করছি। সবগুলি Series পোষ্টের মধ্যখানে ড্রপডাউন ম্যানুর মাধ্যমে লিংক করে দেয়া হবে। আপনি ইচ্ছে করলেই খুবই সহজে সবগুলি পোষ্ট পড়তে পারবেন।
Google Adsense এ Apply করার আগে যে ১০ টি কাজ অবশ্যই করতে হবে
আমরা জানি যে, Google AdSense অনলাইন ভিত্তিক সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনি সংস্থা। তাদের বিজ্ঞাপনের উচ্চ মূল্যের Click Rate এবং আরও বিশেষ সুবিধা জন্য সব ধরনের ব্লগার এবং ওয়েবমাষ্টাররা তাদের ব্লগে Google AdSense ব্যবহার করে অনলাইন হতে আয় করতে চায়। তবে অধিকাংশ ব্লগাররা তাদের অজ্ঞতার কারনে Google AdSense অনুমোদন করতে ব্যর্থ হয়। অথচ সামান্য কিছু টিপস অনুসরণ এবং ধৈর্য ধারণ করে চেষ্টা করলে খুব সহজেই অল্প দিনে Google AdSense অনুমোদন করা যায়। নিচে আপনাদের সাথে শেয়ার করব Google AdSense এ Apply করার আগে যে কাজগুলি অবশ্যই করতে হবে।

সকল পোষ্ট দেখুন
  1. কাষ্টম ডোমেইনঃ Google AdSense অনুমোদন পাওয়ার জন্য Domain অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অধিকাংশ নতুন ব্লগার তাদের ব্লগে Sub-Domain (Blogspot.com অথবা Wordpress.com) ব্যবহার করে Google AdSense এর জন্য আবেদন করেন। যার ফলে দেখা গুগল তাদের আবেদন সরাসরি নাকুচ করে দেয়। তবে এক সময় ছিল যখন Sub-Domain দিয়েও খুব সহজে AdSense অনুমোদন করা যেত, কিন্তু সম্প্রতি এ বিষয়টি খুব বেশী কঠিন হয়েগেছে। কাজেই বিষয়টি সহজ করার জন্য প্রথমে একটি ভালমানের Custom Domain কিনে নিতে হবে। তাছাড়াও Custom Domain ব্যবহার করলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনেও বিশেষ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
  2. Domain Age: Google AdSense অনুমোদন পাওয়ার জন্য ডোমেইনের বয়সও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। AdSense এর জন্য আবেদন করার আগে আপনার ডোমেইনের বয়স কমপক্ষে ২/৩ মাস হতে হবে। তবে ডোমেইনের বয়স ৬ মাস হওয়ার পর AdSense এর আবেদন করাটা সবচেয়ে ভাল। তাছাড়া এশিয়ার বেশ কিছু দেশ রয়েছে যেগুলিতে ৬ মাস না হওয়া পর্যন্ত ব্লগার দিয়ে AdSense জন্য আবেদন করার সুযোগই পাওয়া যায় না।
  3. ব্লগ Design এবং Loading Speed: আপনার ব্লগার টেমপ্লেটটি বা ওয়েবসাইটটি অবশ্যই User Friendly এবং দেখতে আকর্ষণীয় হতে হবে। পাঠকরা যাতে সহজে যে কোন ধরনের বা সাইজের ডিভাইস থেকে ব্লগের বিষয়বস্তু পড়তে পারে। ব্লগের Header, Post, Sidebar এবং Footer সবগুলি অংশে যাতে Google AdSense এর কোড বসানো যায়। তাছাড়া আপনার ব্লগটির Loading Speed অবশ্যই ভাল হতে হবে। তা না হলে Slow গতীর ব্লগে কোনভাবেই আশানুরূপ ভিজিটর পাবেন না।
  4. Search Engine Friendly: আপনার ব্লগের টেমপ্লেট এবং প্রত্যেকটি পোষ্ট সার্চ ইঞ্জিন Friendly হতে হবে। এটি যে কোন ব্লগকে দ্রুত Google AdSense অনুমোদন পেতে সাহায্য করবে। তাছাড়া Google AdSense এর Robot রয়েছে, যেটি আপনার ব্লগকে স্ক্যান করে নেবে। এ ক্ষেত্রে ব্লগের প্রত্যেকটি পোষ্ট সার্চ ইঞ্জিন Friendly না হলে AdSense অনুমোদন করবে না। তাহলে অবশ্যই আপনাকে SEO এর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  5. পর্যাপ্ত Content: একটা কথা মনে রাখবেন সবকিছুর মূলেই হচ্ছে ব্লগের Content. আপনার ব্লগে যত ভালমানের Content থাকবে তত বেশী ভিজিটর পাবেন। কাজেই নিয়মিত ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করতে হবে। Google AdSense এ আবেদন করার পূর্বে আপনার ব্লগে কমপক্ষে ২০/২৫ টি ভালমানের ইউনিক পোষ্ট থাকতে হবে। ব্লগের প্রত্যেকটি Categories এ কমপক্ষে ৫ টি করে পোষ্ট হতে হবে।
  6. প্রতিটি Posts এর Limit: প্রত্যেক পোষ্টে অবশ্যই পরিমানমত লেখা থাকতে হবে। শুধু কোনরকম ২০/২৫ টি পোষ্ট করলেই আপনি Google AdSense পাওয়ার জন্য আশা করতে পারেন না। গুগল বট আপনাকে AdSense অনুমোদন দেয়ার আগে এটাও জেনে নেবে যে, প্রত্যেকটি পোষ্টে কি পরিমান লেখা রয়েছে। প্রতিটি পোষ্ট মিনিমাম ৫০০/৬০০ টি ভালমানের Words এর সমন্বয়ে হতে হবে।
  7. কিছু গুরুত্বপূর্ণ Pages: ব্লগের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ Pages যেমন- About Us, Privacy Policy এবং Contact Us পেজ রাখা আবশ্যক। কয়েক বৎসর আগে Google AdSense Team একটি নিয়ম করেছিল যে, প্রত্যেকটি ব্লগের অবশ্যই Privacy Policy পেজ রাখতেই হবে। তারই নিয়মে অবশ্যই বাকি পেজগুলিও রাখাটা ভাল।
  8. নাম, বয়স এবং ইমেইলঃ আপনার নাম, বয়স এবং ইমেইল এড্রেস অবশ্যই Google Account এবং Contact Us পেজে ব্যবহৃতটির মাধ্যমে করবেন। এতেকরে Google AdSense রোবট সহজে আপনার নাম, বয়স এবং ইমেইল এড্রেস সম্পর্কে নিশ্চিত হবে পারবে। তাছাড়া Google AdSense এ আবেদন করার জন্য আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ বৎসর হতে হবে।
  9. সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটরঃ সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটর পেলে আপনার ব্লগের জন্য Google AdSense পাওয়া আরও সহজ হয়ে যায়। কারণ যে ব্লগে গুগল সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটর আসে সে ব্লগকে গুগল বেশী পছন্দ করে। কাজেই সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটর পাওয়ার জন্য ভালভাবে SEO অনুসরণ করতে হবে। আপনার ব্লগে যদি ভিজিটর কম থাকে তাহলে AdSense পাওয়ার আশা করতে পারেন না। Google AdSense পাওয়ার জন্য আপনার ব্লগে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০/৩০০ ইউনিক ভিজিটর থাকতে হবে।
  10. অন্য বিজ্ঞাপন না দেওয়াঃ আপনার ব্লগে যদি অন্য কোন ধরনের PPC বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন তাহলে Google AdSense এ আবেদন করার পূর্বে তা সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় গুগল আপনার ব্লগে AdSense অনুমোদন করবে না। কারণ Google AdSense তাদের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অন্য কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাতে পছন্দ করে না।
সর্বশেষঃ উপরের সবগুলি ধাপ ভালভাবে অনুসরণ করলে নিঃসন্দেহে যে কোন ব্লগার তাদের ব্লগে প্রথমবার Apply করেই Google AdSense অনুমোদন করতে পারবে। সুতরাং আপনি যদি আপনার প্রিয় ব্লগে Google AdSense ব্যবহার করে অনলাইন হতে আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই আগে ব্লগটিকে ভালভাবে ঠিকঠাক করে নিতে হবে। কেবল তবেই Google AdSense পাওয়া সোনার হরিনের মত না হয়ে একদম সহজ মনে হবে।

AdSense অনুমোদন না হওয়ার প্রধান ১০ টি কারন!

Google Adsense সর্বপ্রথম ২০০৩ সালের জুন মাসে অফিসিয়ালভাবে চালু করার পর হতে প্রথম ৩-৪ বৎসর যদিও অনুমোদন করা খুব সহজ একটা ব্যাপার ছিল কিন্তু এর পর থেকে যত দিন যাচ্ছে বিষয়টি তত কঠিন হয়ে দাড়াচ্ছে। শুরুর দিকে যে কেউ যেন-তেন কপি করা একটি ব্লগ দিয়েও অনুমোদন করে নিতে পারলেও বর্তমানে একটি ভালমানের ব্লগেও বিভিন্ন নিয়ম সঠিকভাবে না মানার কারনে অনুমোদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে যারা পূর্ণাঙ্গভাবে Google Adsense এর সকল নিয়ম মেনে ব্লগিং করছে তারা খুব সহজে অনুমোদন করতে সক্ষম হচ্ছে।
AdSense অনুমোদন না হওয়ার প্রধান ১০ টি কারন!
Adsense দিনের পর দিন তাদের পলিসি পরিবর্তন করার সাথে সাথে বিষয়টি আরও কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। যদিও শুরুর দিকে অনেকে একটি নরমাল ব্লগ দিয়ে Adsense অনুমোদন করতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু পরবর্তীতে যথাযথ নিয়ম না মেনে ব্যবহার করার কারনে অনেকের একাউন্ট ব্যান হয়েছে। আর একবার Adsense একাউন্ট ব্যান হলে সেটি আর কখন ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না।

বর্তমান সময়ের অনেক ভালমানের ব্লগার আছেন যারা বার বার Google Adsense এর জন্য আবেদন করে অনুমোদন করতে না পেরে হতাশ হচ্ছেন। কিছু লোক চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে আবার অনেকে কিছুতেই ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারছেন না। যারা বার বার আবেদন করেও Adsense পাচ্ছে না তাদের জন্য ১০ টি প্রধান কারণ শেয়ার করতে যাচ্ছি। এ গুলি নিশ্চয় আপনার ব্লগের ভূলগুলিকে সংশোধন করতে সাহায্য করবে।

 ০১. ব্লগের বয়স কম হওয়াঃ

Google AdSense এ আবেদন করার পূর্বে আপনার ব্লগের/ওয়েবসাইটের বয়স কমপক্ষে ৬ মাস হতে হবে। বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশের কোন জায়গা থেকে আবেদন করার জন্য ব্লগের বয়স ৬ মাস পূর্ণ না হওয়া অবধি আবেদন করাই সম্ভব হয় না। কাজেই ব্লগের বয়স ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পরে Adsense এর জন্য আবেদন করা উচিত।

 ০২. অপর্যাপ্ত কনটেন্টঃ

একটি ব্লগ পরিচালনা করার জন্য কনটেন্ট হচ্ছে তার প্রাণ। আপনার ব্লগে যত ভালমানের Content থাকবে তত বেশী ভিজিটর পাবেন। Google AdSense এ আবেদন করার পূর্বে আপনার ব্লগে কমপক্ষে ২০/২৫ টি ভালমানের ইউনিক পোষ্ট থাকতে হবে। ব্লগের প্রত্যেকটি Categories এ কমপক্ষে ৫ টি করে পোষ্ট হতে হবে। কারণ Adsense কর্তৃপক্ষ আপনার ব্লগটিকে অনুমোদন করা পূর্বে ভালভাবে যাচাই করে দেখবে ব্লগের পর্যাপ্ত পরিমানে কনটেন্ট আছে কি না।

 ০৩. Poor Quality কনটেন্টঃ

ব্লগে শুধুমাত্র পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকলেই হবে না, পোষ্টগুলি অবশ্যই ভালমানের হতে হবে। আপনি যেন-তেন কিছু লেখা ব্লগে ছাপিয়ে রেখেই পর্যাপ্ত কনটেন্ট রয়েছে মনেকরে Adsense পাওয়ার জন্য আবেদন করলে কিছুতেই অনুমোদন হবে না। আপনি যদি ব্লগিং ‍শুরু করার পূর্বে মনেকরে থাকেন যে, ভবিষ্যতে আপনার ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্স ব্যবহার করে অনলাইন হতে আয় করবেন, তাহলে অবশ্যই এমন বিষয় নিয়ে লিখা শুরু করবেন যার মূল্য সার্চ ইঞ্জিনসহ সকল ধরনের পাঠকের কাছে রয়েছে। আপনার ব্লগে যখন ভালমানের কনটেন্ট থাকবে তখন ব্লগটি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হবে। যার ফলে গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার পথ সুগম হবে।

 ০৪. ইউনিক কনটেন্টঃ

এটি ব্লগিং এবং গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কমন ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই বিষয়টির ভীতরের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কেউই ভালভাবে বুঝতে চান না বা বুঝতে সক্ষম হন না। অনেকের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয় না যে, আসলে ইউনিক কনটেন্ট বলতে কি? বেশীরভাগ লোকই মনেকরে কারও ব্লগ থেকে কপি করা কনটেন্ট ব্যবহার না করলেই সেটি ইউনিক কনটেন্ট হয়। মূলত বিষয়টির পরিপূর্ণ অর্থ এ ভাবে হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার ব্লগের প্রত্যেকটি পোষ্ট অন্যের ব্লগ থেকে কপি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইউনিক কনটেন্ট বলতে সেটাকে বুঝাবে, যেটির বিষয়বস্তু অন্য কারও সাথে কোনভাবেই মিলছে না। এখন আপনি হয়ত বলবেন আমি যেহেতু কারও কোন কনটেন্ট কপি করিনি তাহলে কথাত এটাই হচ্ছে। এ জন্য আমি বিষয়টি উদাহরনের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার করছি।

ধরুন-আপনি হিন্দি সিনেমার রিভিউ নিয়ে ব্লগিং করেন। এ ক্ষেত্রে আপনি “দিলওয়ালে” সিনেমার একটি পূর্ণাঙ্গ রিভিউ নিজের ভাষায় বর্ণনা করলেন। তখন আপনি বলবেন এটি সম্পূর্ণ আপনার নিজের ভাষায় লিখা একটি ইউনিক কনটেন্ট, কিন্তু আপনি হয়ত জানেন না এর পূর্বে “দিলওয়ালে” সিনেমার পরিচালক তাদের অফিসিয়াল ব্লগে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিভিউ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনভাবেই আপনার কনটেন্ট ইউনিক হতে পারে না। এখানে তাদের অফিসিয়াল রিভিউ সবার কাছে হবে ইউনিক এবং সবচাইতে গ্রহনযোগ্য। এ ভাবে প্রত্যেকটা বিষয়ের ক্ষেত্রে একই অর্থ দাড়াবে। ইউনিক বলতে কেবল ঐ বিষয়টাকে বুঝাবে যেটি কারও সাথে কোনভাবেই মিলে না। আপনি যদি ২০/২৫ ইউনিক কনটেন্ট শেয়ার করতে পারেন তাহলে Google Adsense একাউন্ট অনুমোদন হবেই হবে।

 ০৫. অনুপযুক্ত কনটেন্টঃ

কিছু কনটেন্ট রয়েছে যেগুলি ব্যবহার করা Blogger Policy এর বাহিরে। যেগুলি ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের কনটেন্ট ব্যবহার করে যত ট্রাফিকই পান না কেন ব্লগের Adsense অনুমোদন হবে না। নিচে দেখুন-
  • পর্ণগ্রাফি/Adult কনটেন্ট।
  • হ্যাকিং বা ক্রাকিং টিপস।
  • থার্ড পার্টি ভিডিও শেয়ারিং ব্লগ।
  • বিভিন্ন মাদক জাতীয় দ্রব্যের প্রচার বা প্রসার।
  • Alcohol দ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট করা।
  • পরস্পর বিরোধী কনটেন্ট।
  • মারাত্মক অস্ত্রের বিজ্ঞাপন।

 ০৬. পর্যাপ্ত ট্রাফিক না থাকাঃ

আপনার ব্লগে যদি পর্যাপ্ত ট্রাফিক না থাকে তাহলে কোনভাবেই Google Adsense অনুমোদন হবে না। ব্লগে যখন পর্যাপ্ত পরিমানে Organic ট্রাফিক থাকবে তখন খুব সহজেই এ্যাডসেন্স অনুমোদন হবে। কারন গুগল চায় এমন কাউকে এ্যাডসেন্স একাউন্ট দিতে যার ব্লগের মাধ্যমে তারা ভিজিটরদের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে লাভবান হতে পারে। আপনি যখন ভালভাবে SEO মেনে ভালমানের ইউনিক কনটেন্ট শেয়ার করবেন তখন ট্রাফিক অটোমেটিক্যালি বাড়তে থাকবে। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখবেন কোন প্রকার Paid Traffic মাধ্যমে ভিজিটর বৃদ্ধি করে কোন লাভবান হতে পারবেন না। যখন কোন প্রকার সোসিয়াল মিডিয়া ছাড়া শুধুমাত্র গুগল সার্চ ইঞ্জিন হতে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিজিটর পাবেন তখন Adsense আপনাকে সহজে অনুমোদন করবে।

 ০৭. ব্লগের ডিজাইন ভাল না হওয়াঃ

আপনি যখন কোন ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আগে আপনার দোকান বা ব্যবসার জায়গাটি ভালভাবে সাজিয়ে চক-চকে করে নেবেন। তারপর ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় উপকরন দোকানে বসাবেন। ব্লগের বিষয়টি ঠিক সে রকম। আপনার ব্লগটি যদি ভাল ডিজাইনের না হয় এবং Google Adsense কোড বসানোরমত পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে তাহলে কিছুতেই এ্যাডসেন্স অনুমোদন করবে না। কারণ আপনার ব্লগের প্রয়োজনীয় জায়গায় বিজ্ঞাপন বসিয়ে পরিষ্কারভাবে ভিজিটরদের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাতে না পারলে তাদের কোন লাভ হবে না। কাজেই ব্লগের ডিজাইন অবশ্যই Responsive, স্বচ্ছ এবং Adsense Ad ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে।

 ০৮. টপ লেভেলে ডোমেন ব্যবহার না করাঃ

বিশেষ করে এখনকার সময়ে Google AdSense অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে Domain অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অধীকাংশ নতুন ব্লগাররা তাদের ব্লগে ভালমানের ডোমেন ব্যবহার না করে Sub-Domain (Blogspot.com অথবা Wordpress.com) ব্যবহার করে Google AdSense এর জন্য আবেদন করেন। যার ফলে দেখা যায় গুগল তাদের আবেদন সরাসরি নাকুচ করে দেয়। তবে এক সময় ছিল যখন Sub-Domain দিয়েও খুব সহজে AdSense অনুমোদন করা সম্ভব হত, কিন্তু সম্প্রতি এ বিষয়টি বেশ কঠিন হয়েগেছে। কাজেই বিষয়টি সহজ করার জন্য ব্লগিং শুরু করার পূর্বে একটি ভালমানের Custom Domainকিনে নেয়াটাই উত্তম হবে।

 ০৯. Privacy Policy ও Terms of Service Inform না থাকাঃ

যে কোন ব্লগের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ Pages যেমন- About Us, Privacy Policy এবং Contact Us পেজ রাখা আবশ্যক। কারণ এগুলির মাধ্যমে Adsense আপনার ব্লগ সম্পর্কে জেনে নিয়ে নিশ্চিত হতে পারবে আসলে ব্লগটার Owner আপনি কি না। কয়েক বৎসর আগে Google AdSense Team একটি নিয়ম করেছিল যে, প্রত্যেকটি ব্লগের অবশ্যই Privacy Policy পেজ রাখতেই হবে। তারই নিয়মে অবশ্যই বাকি পেজগুলিও রাখাটা ভাল।

 ১০. অন্য বিজ্ঞাপন ব্যবহারঃ

আপনি যদি ব্লগে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে Google Adsense এ আবেদন করার সময় অবশ্যই সেগুলি Remove করে নিবেন। কারণ Google Adsense Team আপনার ব্লগটি রিভিউ করার সময় কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পেলে Adsense অনুমোদন করবে না। তাছাড়া এটি Adsense Policy এর আওতায়ও পড়ে না।

 Advanced ট্রিকসঃ

এ ছাড়াও Google Adsense অনুমোদন না হওয়ার আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেগুলি সম্পর্কে এখন বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়। নিচে আমরা সংক্ষেপে বিষয়গুলি তুলে ধরছি।
  • আবেদনকারীর বয়স ১৮ বৎসর না হওয়া।
  • Evil সাইটে ব্লগের লিংক করা থাকলে।
  • সাইট Malware এ আক্রান্ত হলে।
  • ব্লগটির প্রকৃত মালিক নিজে না হলে।
  • ব্লগের Navigation সহজে বুঝা না গেলে।
  • বাচ্ছাদের Privacy Protection Act এর বহিঃভূত হলে।
  • ব্লগের কনটেন্টের ভাষা সাপোর্ট না করলে।
  • পূর্বে কখন Adsense Account ব্যান হলে।
  • সঠিকভাবে Adsense Policy অনুসরণ না করলে।
সর্বশেষঃ যারা ইতিপূর্বে Google Adsense এ Apply করে অনুমোদন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা উপরের টিসগুলি ভালভাবে পড়লে পূর্বে আপনি কোথায় ভূল করেছেন সেটি সহজে Find Out করতে পারবেন। অন্যদিকে যারা এখন Adsense এ Apply করেননি তারা এই টিপসগুলি অনুসরণ করলে খুব সহজে প্রথমবারেই অনুমোদন করতে সক্ষম হবেন।

Google AdSense থেকে কিভাবে টাকা উপার্জন করবেন?


অনলাইনে টাকা উপার্জনের যত উপায় আছে তার মধ্যে Google Adsense হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিন্তু সবার মনে কিছু প্রশ্ন জাগে যে, এটা কি সত্য বা সম্ভব? আমি কি সব সময় Google Adsense থেকে টাকা উপর্জন করতে পারবো? আমি কি ওখান থেকে ‍উপার্জিত টাকা দিয়ে সব কিছু চালিয়ে যেতে পারবো? আজ এই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশা পাশি আপনাদের দেখাবে কিভাবে সফল ব্লগাররা তাদের ব্লগে Google Adsense হতে টাকা উপার্জন করছে।

Google Adsense কিঃ ইন্টারনেট বিশ্বের সবাই কম-বেশী Google Adsense সম্পর্কে অবগত আছে। Google Adsense হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা যেটি গুগল নিজে পরিচালনা করছে। গুগল যত টাকা উপার্জন করে তার ২৭ ভাগ আসে Google Adsense থেকে। এটি Publisher এর জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি। আপনি যদি এর একজন পাবলিশার হতে চান তাহলে কোন টাকা ব্যয় করতে হবে না। আপনি খুব সহজে আপনার ব্লগে এই বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে ভালমানের টাকা উপার্জন করতে পারবেন।
Google AdSense থেকে কিভাবে টাকা উপার্জন করবেন
Google Adsense থেকে টাকা উপার্জন করার জন্য কি প্রয়োজনঃ Adsense বিজ্ঞাপন থেকে Google যত টাকা আয় করে তার 68 ভাগ টাকাই দিয়ে থাকে পাবলিশারদের এবং বাকী 32 ভাগ টাকা নিজেরা ভোগ করে। কাজেই বুঝতে পারছেন আপনি কি পরিমানে টাকা উপার্জন করতে পারবেন। Google Adsense থেকে টাকা উপার্জন করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার মধ্যে গুরুপূর্ন কয়েকটি বিষয় নিম্নে সংক্ষেপে দেওয়া হলো -

  1. ভালমানের কনটেন্টঃ কনটেন্ট নিয়ে লেখার আগে বলে রাখছি Google Adsense পাওয়ার জন্য আপনার ব্লগটি অবশ্যই ইংরেজী ভাষার কনটেন্ট যুক্ত হতে হবে। বাংলা কনটেন্টের ব্লগে Google Adsense ব্যবহার করতে পারবেন না। তাছাড়া আমি সবসময় একটা কথাই বলে থাকি যে, আপনি যদি একজন ভালমানের ব্লগার হতে চান তাহলে অবশ্যই ব্লগে ভালমানের নিত্য নতুন আর্টিকেল পাবলিশ করেন। আপনি যে বিষয়টি ভালভাবে জানেন এবং বুঝেন সেই বিষয়টি নিয়ে কারও কাছ থেকে কপি পেষ্ট করা নয় এমন কনটেন্ট পাবলিশ করেন। কারণ Google Adsense সব সময়ই নিত্য নতুন আর্টিকেল পাগলের মত পছন্দ করে।
  2. ভালমানের ওয়েবসাইটঃ শুধুমাত্র আর্টিকেল অর্থাৎ যে কোন আজে বাজে বিষয় নিয়ে লিখলে আপনি একজন ভালমানের ব্লগার হতে পারবেন না। এতে করে আপনার ব্লগের গুনগত মান বৃদ্ধি পাবে না। আপনি যখনই ভালমানের টপিক নিয়ে লিখবেন তখনই আপনার ব্লগটি ভাল মান পাবে। Google Adsense হতে উপার্জিত টাকা তারা খুবই বিশ্বস্ততার সাথে পরিশোধ করে। কাজেই তারা চায় না কোন প্রকার Low Quality এর ব্লগে তাদের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে।
  3. ভিজিটরঃ আপনি যত কিছুই নিয়ে ব্লগিং করেন না কেন আপনার টার্গেট হচ্ছে ব্লগে ভিজিটর পাওয়া। আপনি যখন ব্লগে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর পাবেন তখনই আপনার এত পরিশ্রম সফল হবে। কারণ ভিজিটরহীন ব্লগ এর কোন মানেই হয় না। তাছাড়া Google Adsense হতে কি পরিমানে টাকা পাবেন তা নির্ভর করে করে ভিজিটরের উপর অর্থাৎ আপনার ব্লগে যত বেশী ভিজিটর আসবে আপনার আয়ও তত বাড়তে থাকবে। 
  4. কীওয়ার্ড বাছাইঃ ব্লগে বেশী পরিমানে ভিজিটর পাওয়ার জন্য Keyword বাছাই করতে হবে। আপনার ব্লগের কনটেন্ট অনুযায়ী হাই কোয়ালিটির কীওয়ার্ড বাছাই করতে হবে। এতেকরে আপনার ব্লগে ভিজিটর বাড়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের ক্লিক রেটও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে আপনি Google Keyword Research Tool এর সাহায্য নিতে পারে। ওখান থেকে জানতে পারবেন আপনার ব্লগ রিলেটেড কোন কোন কীওয়ার্ড ব্যবহার করে ভিজিটর সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করছে এবং কোন কীওয়ার্ডগুলি হাই কোয়ালিটির। সেখান থেকে বেছে বেছে হাই কোয়ালিটির কীওয়ার্ডগুলি আপনার ব্লগে ব্যবহার করবেন।
  5. Google AdSense policies: আপনি হয়তো ভাবছেন যে, Google AdSense একাউন্ট আছে তাই যে কোন অসদ উপায় অবলম্বন করে আয় বাড়ীয়ে নেবেন। কিন্তু মনে রাখবেন Google AdSense একাউন্ট অনুমোদন করা যতটা না কঠিন, তার চেয়ে আরও কঠিন এটিকে ঠিকিয়ে রাখা। কারণ Google AdSense policies পরিপন্থি কোন কাজ করলেই আপনার Account টি Disable হতে পারে। আর একবার Account টি Disable হলে আর কোন দিন তা একটিভ করতে পারবেন না। কাজেই AdSense এ Apply করার আগে এবং Approved করার পরে Google AdSense Policies ভালভাবে পড়ে নিয়ে ১০০ ভাগ মেনে চলার চেষ্টা করবেন। তাহলে আপনার একাউন্ট গুগলের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে উঠবে এবং কোন দিনই Disable হবে না।
AdSense এর টাকায় কি জীবন ধারন সম্ভবঃ এই প্রশ্নের জবাবে আমি বলবো যে, AdSense থেকে 100 ভাগ জীবন ধারন করা বা পরিবার চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আপনি এখান থেকে সবসময় ভালমানের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। দেখা যাবে হয়তো আপনি কোন মাসে বেশ কিছু টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন, আবার কোন মাসে সামান্য কিছু টাকা উপার্জন করতে পেরেছেন। তবে এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আপনার ব্লগটি যদি ভালমানের হয়, ভাল কোয়ালিটির কনটেন্ট থাকে এবং প্রচুর পরিমানে ভিজিটর থাকে তাহলে এখান থেকে প্রতিনিয়তই একটা Smart Amount উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। যা দ্বারা আপনার পরিবার পরিচালনা করতে সক্ষম না হলেও অনেকাংশেই সহায়তা করবে।

উপসংহারঃ যেহেতু AdSense অনলাইন থেকে টাকা উপার্জনের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বস্ত একটি মাধ্যম, সেহেতু আমার মনে হয় আপনি ব্লগিংকে পেশা হিসেবে না নিলেও সখ হিসেবে ব্যবহার করে সামান্য কিছু সময় ব্যয় করে, খুব বেশী না হলেও অল্প কিছু টাকা উপার্জন করতে পারবেন। যা আপনার লেখা-পড়া কিংবা পেশার পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

Google AdSense আয় বৃদ্ধি করার ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ Tips


অন-লাইন থেকে আয় করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে Google Adsense এবং Adsense এর সকল নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করে সবচাইতে সহজে আয় করার উপায়ও বটে। আপনি যদি Google Adsense এর সকল Guideline অনুসরণ করে ব্লগিং করেন তাহলে খুব সহজেই Adsense Approved করে সঠিকভাবে বিজ্ঞাপন শো করিয়ে আপনার ব্লগ থেকে অনেক ভালমানের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।
Google Adsense আয় বৃদ্ধি করার ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ Tips
অনেকে দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে যদিও Google Adsense অনুমোদন করতে সক্ষম হন কিন্তু আয় বৃদ্ধি করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েন। যার ফলে কিছু লোক Google Adsense ব্যবহার করার বিপক্ষে সাপোর্ট দেন। আসলে এ রকম ধারনা করা মোটেও ঠিক নয়। Google Adsense আয় বৃদ্ধি না হওয়ার প্রধান কারন হচ্ছে এর সঠিক ব্যবহার করতে না পারা। আপনি যদি সঠিকভাবে ঠিক জায়গায় Google Adsense বিজ্ঞাপন বসিয়ে নিয়মানুসারে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে খুব সহজে আপনার ব্লগ হতে ভালমানের এমাউন্ট অর্জন করতে পারবেন। নিচের সবগুরি টিপস যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করেন তাহলে Google Adsense আয় বৃদ্ধি পাবেই।

 ০১. Google Adsense Policy অনুসরণঃ

বেশীরভাগ পাবলিশাররা এ বিষয়টি নিয়ে কখনও ভাবেন না। তারা মনেকরেন এটি ব্লগের ক্ষেত্রে তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। Google Adsense এ আবেদন করার আগে ও কোড বসানোর পরে তাদের পরিপূর্ণ Adsense Guideline পড়ে নিয়ে সবকিছু সঠিকভাবে অনুসরণ করতেই হবে। Google Adsense এর Guideline অনুসরণ না করে কোন কিছু করলে আপনার আয় বৃদ্ধির হওয়ার পরিবর্তে যে কোন সময় আপনার Google Adsense একাউন্ট ব্যান হতে পারেন। নিচে আমরা Google Adsense এর প্রধান কয়েকটি বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরলাম।
  • নিজের ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা।
  • Paid Traffic বা Clicking ব্যবহার না করা।
  • অন্যকে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে উৎসাহিত না করা।
  • IP Address পরিবর্তন করে বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা।
  • ব্লগে Adult Content এবং Alcohol জাতীয় কোন কিছু শেয়ার না করা।
  • কনটেন্ট নেই এমন কোন জায়গায় বিজ্ঞাপন কোড না বসানো।
  • ভাষা সাপোর্ট করে না এমন ব্লগে বিজ্ঞাপন না বসানো।

 ০২. Responsive AdSense Units ব্যবহার করাঃ

বর্তমান সময়ে Google Adsense আয় বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে Responsive AdSense Units সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি জরিপ করলে বিষয়টি দেখতে পাবেন যে, প্রতিদিন গড়ে মোট ভিজিটরের ৫০% এরও বেশীলোক আপনার ব্লগে কম্পিউটার ব্যতীত বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস, যেমন-মোবাইল, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট থেকে ভিজিট করছে। এ ক্ষেত্রে আপনার ব্লগটি যদি Responsive না হয় এবং Responsive AdSense Units ব্যবহার না করেন তাহলে ভিজিটরদের ৫০% এর বেশী লোক বিজ্ঞাপন দেখা থেকে বিরত থাকছে অর্থাৎ মানে দাড়াচ্ছে আপনি ঐ ৫০% ভিজিটররে কাছ থেকে কোন লাভ অর্জন করতে পারছেন না। কাজেই ব্লগের আয় বৃদ্ধি করার জন্য অবশ্যই ব্লগেকে Responsive ডিজাইন করে নেবেন।

 ০৩. সঠিক জায়গায় বিজ্ঞাপন কোড বসানঃ

Google Adsense বিজ্ঞাপনের কোডগুলি এমন জায়গায় বসাবেন যাতে করে ভিজিটররা খুবই সহজে দেখতে পায়। এটি আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক হওয়ার অধিক সম্ভাবনা তৈরি করবে। Google Adsense সবসময় কনটেন্ট Related বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে, কাজেই যখন পাঠক সহজে বিজ্ঞাপন দেখতে পাবে তখন ঐ জিনিসটা তার প্রয়োজন পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে সে তার প্রয়োজনে অবশ্যই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে। তবে ব্লগের কনটেন্ট Area এর ভীতরে অধিক পরিমানে বিজ্ঞাপন বসানো থেকে বিরত থাকবেন।

 ০৪. নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করাঃ

কনটেন্ট হচ্ছে একটি ব্লগের ট্রাফিক এবং আয় বৃদ্ধি করার প্রধান ও একমাত্র মাধ্যম। আপনার ব্লগে যদি প্রচুর পরিমানে নিত্য নতুন ইউনিক ভিজিটর পেতে চান তাহলে অবশ্যই নিয়মিত নতুন নতুন আর্টিকেল পোষ্ট করুন। আপনি যখন SEO অনুসরণ করে ব্লগে ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করবেন তখন ভিজিটর ও আয় দুটিই বাড়তে থাকবে। তবে একটা জিনিস মনে রাখবেন বেশী কনটেন্ট শেয়ার করতে গিয়ে কখন কারও কপি করা কনটেন্ট শেয়ার করবেন না। এতেকরে আয় বৃদ্ধি হওয়ার পরিবর্তে Adsense একাউন্ট হারাতে পারেন।

 ০৫. ব্লগের Load Time বৃদ্ধি করাঃ

এটা নিশ্চিত যে, একটি দ্রুত গতীর ব্লগ ভিজিটর এবং বিজ্ঞাপন ক্লিক দুটিই বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। আপনার ব্লগটি যদি খুব ধীর গতির হয় তাহলে কোনভাবেই ভিজিটর এবং Page View পাবেন না। কারণ ব্লগ যদি Load নিতে বেশী সময় নেয় তাহলে ভিজিটররা বিরক্ত বোধ করবে এবং আপনার ব্লগ থেকে বেরিয়ে যাবে। অধীকন্তু বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্পীডের যা অবস্থা তাতে করে বুঝতেই পারছেন যে, ব্লগ স্লো গতির হলে কি হবে। 

 ০৬. অন্য বিজ্ঞাপন Remove করাঃ

Google Adsense বিজ্ঞাপন হতে আয় বৃদ্ধি করতে চাইলে অবশ্যই Adsense থেকে কম গুরুত্ব বহন করে এমন সকল বিজ্ঞাপন Remove করুন। তাহলে আপনার ব্লগের Load Time অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু Google Adsense তাদের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অন্য ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পছন্দ করে না। Google Adsense এর জন্য আবেদন করার পূর্বে আপনি যদি অন্য কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই সেটি Remove করবেন। তা না হলে কোনভাবে Adsense টিম আপনার আবেদন অনুমোদন করবে না।

 ০৭. Adsense Referrers ব্যবহার করাঃ

আপনার Google Adsense একাউন্টটিকে Google Analytics Account এর সাথে যুক্ত করে রাখলে খুব সহজে প্রতিদিনকার আয়ের পরিমান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাছাড়া কোন কোন সাইটের মাধ্যমে, কিভাবে, কি পরিমানে আয় হচ্ছে তাও জানতে পারবেন। যেমন-আপনি ফেইসবুকে বা এ ধরনের আরও বিভিন্ন সাইটে ব্লগের লিংক প্রমোট করার মাধ্যমে কি পরিমান আয় করেন তার বিস্তারিতও শো করবে। এতেকরে আপনি সহজে বুঝতে পারবেন যে, আপনার ব্লগের আয় বাড়ানোর জন্য কি করা উচিত।

 ০৮. Google Products Monitization ব্যবহারঃ

Google Adsense থেকে বাড়তী কিছু আয় করার জন্য Google Products Monitization অপশনগুলি ব্যবহার অর্থাৎ গুগলের অন্যান্য বিভিন্ন প্রোডাক্টসগুলিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাতে পারেন। নিম্নে আমি এ রকম গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রোডাক্টস তুলে ধরছি -
  • Youtube Monitization: আপনার Youtbe Channel এ যদি ভালমানের ভিডিও থাকে তাহলে Youtube Partner হওয়ার মাধ্যমে ভিডিও গুলিতে Adsense ব্যবহার করে সহজে আয়ের উৎস বৃদ্ধি করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সময়ে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করার মাধ্যম গুলির মধ্যে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো YouTube এ ভিডিও Monitized করা।
  • RSS Feed এ Adsense ব্যবহারঃ আপনি যদি FeedBurner ব্যবহার করে থাকেন কিংবা অনেক Subscriber থাকে তাহলে RSS Feed এর সাথে Adsense Account যুক্ত করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমেও আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন।
  • Google Custom Search: আমাদের ব্লগে প্রায় সবাই গুগল কাষ্টম সার্চ বক্স ব্যবহার করে থাকি। আপনি হয়ত জানেন না যে, এই Google Custom Search Box এর সাথেও Adsense Account যুক্ত করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানো যায়। কেউ যখন আপনার ব্লগের Google Custom Search ব্যবহার করে কিছু খোঁজবে তখন সার্চ রেজাল্টের উপরে ও ডানে কিছু বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এ বিজ্ঞাপন আয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা পালন করবে।

 ০৯. Standard ad Sizes ব্যবহারঃ

বিজ্ঞাপনের সাইজবেধে আলাদা আলাদা Click Rate ও Demand রয়েছে। উপযুক্ত সাইজের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলে আয়ের পরিমান বৃদ্ধি পাবে। যেমন ধরুন-790×90, 728×90, 336×280, 300×250, 300×600 ও 468×60 সাইজের বিজ্ঞাপনগুলির মূল্য অন্যান্য গুলির চাইতে অনেক বেশী। পাশাপশি খেয়াল করবেন বিজ্ঞাপন যাতে Image ও Text দুই ধরনেরই হয়।

 ১০. High Paying Ads ‍ও Keywords:

আমি আগেও বলেছি Adsense সবসময় পোষ্টের সাথে Related বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। যেমন-আপনি যদি Cricket খেলা সম্পর্কিত কোন পোষ্ট লিখেন, তাহলে ঐ পোষ্টে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে Cricket খেলার বিজ্ঞাপন শো করবে। তেমনি আমেরিকার কোন বিষয় নিয়ে পোষ্ট করলে পোষ্টটিতে ঐ দেশের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এ ক্ষেত্রে আপনি Keyword Tool ব্যবহার করে High Label এর Keywords ব্যবহার করে ভালমানের পোষ্ট শেয়ার করতে পারেন। তাহলে Adsense আপনার ব্লগে ভালমানের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এতে আপনার ব্লগের আয় দ্বিগুনের চাইতেও বেশী হবে। তাছাড়া Adsense বিজ্ঞাপনের Rate উন্নত দেশগুলিতে বেশী হয়ে থাকে। কাজেই আপনি যদি USA, UK, Indonesia, Australia এর ভিজিটরদের টার্গেট করতে পারেন তাহলে অল্প ভিজিটর দিয়েও সহজে ভালমানের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

সর্বশেষঃ Google Adsense থেকে আয় বৃদ্ধি করার জন্য আমরা পোষ্টটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলি তুলে ধরেছি। আমি যে কোন ব্লগারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি কেউ যদি উপরের এই ১০ টি টিপস পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে পারেন তাহলে তার ব্লগে Google Adsense ব্যবহার করে নিঃসন্দেহে ভালমানের টাকা (Smart Amount) উপার্জন করতে পারবেন।

কিভাবে Personal ব্লগ থেকে টাকা উপার্জন করবেন?


প্রায় সময়েই অনেকের সামনে আমাকে একটি প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় যে, আমি কি ব্যক্তিগতভাবে ব্লগে আর্টিকেল পাবলিশ করে অন-লাইন হতে টাকা উপার্জন করতে পারব? অধিকাংশ লোক এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানার জন্য অধীর কৌতুহলী আগ্রহ নিয়ে প্রশ্নটি করেন। প্রশ্নকারীকে সহজে বুঝানোর স্বার্থে যে কোন অন-লাইন মার্কেটার প্রশ্নটির উত্তর এক কথায় দেবেন, হ্যা। তখন এই উত্তরের প্রেক্ষিতে আরোও অসংখ্য প্রশ্ন অটোমেটিক্যালি আসতে থাকবে। তাহলে কিভাবে করব, কি করতে হবে এবং কিভাবে বেশী আয় করব, ইত্যাদি ইত্যাদি?
কিভাবে Personal ব্লগ থেকে টাকা উপার্জন করবেন?
অন-লাইন হতে আয় করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক কোম্পানীগুলির জন্য যতটা না কঠিন, তার চাইতে অধিক কঠিন কোন পার্সনাল ব্লগ হতে ব্লগিংয়ের মাধ্যমে আয় করা। কারণ কোন ভালমানের কোম্পানী তাদের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার কারনে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের অনেক নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করেও পর্যাপ্ত ভিজিটর পেয়ে যান। ফলে দেখা যায় পর্যাপ্ত ভিজিটর থাকার কারনের তারা খুব সহজে যে কোন ধরনের CPC বা CPM টাইপের বিজ্ঞাপন ব্যবহারের অনুমোদন পেয়ে যান। অধিকন্তু তাদের জনপ্রিয়তার কারনে বিভিন্ন Local Advertising কোম্পানীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অফার পেয়ে ভালমানের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হন।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত ব্লগের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং কঠিনতর হয়। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় আপনি যখন ব্লগিং শুরু করবেন, তখন আপনার ব্লগটি কেউই চিনবে না। সে ক্ষেত্রে সবার কাছে পরিচিত করার জন্য সার্চ ইঞ্জিনের সকল নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করে আপনার ব্লগের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত অন্য ব্লগগুলিকে পিছনে ফেলে নিজের ব্লগটিকে সার্চ রেজাল্টের প্রথম পাতায় নিয়ে আসতে হবে। ভালমানের কনটেন্টের সমন্বয়ে যখনই আপনি এ কাজটি করতে সক্ষম হবেন, কেবল তখনই আপনি আপনার ব্লগ থেকে আশানুরূপ আয়/ফলাফল পাওয়ার আশা করতে পারেন। কারন যখন আপনার ব্লগে পর্যাপ্ত পরিমানে ভালমানের কনটেন্ট থাকবে এবং পোষ্টগুলি সার্চ রেজাল্টের প্রথম পাতায় আসতে থাকবে, তখন আপনার ব্লগে ভিজিটর বৃদ্ধি করার জন্য চিন্তা করতে হবে না। তবে এই পুরো কাজটি আপনাকে একা করার ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমানে ধৈর্য্য ধারন করে একাগ্রতার সাথে দীর্ঘ দিন পরিশ্রম করে যেতে হবে। উল্লেখ্য যে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত ব্লগে CPC বা CPM বিজ্ঞাপন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যার ব্লগে যত বেশী ভিজিটর থাকবে সে তত বেশী আয় করতে পারবে।

নিচে আমরা সবচাইতে সহজ এবং দীর্ঘ মেয়াদী আয় করার মত ০৩ টি উপায় দেখাব, যেখান থেকে আপনার ব্যক্তিগত ব্লগে আর্টিকেল পাবলিশ করে টাকা আয় করতে পারবেন।

 Google AdSense

সম্ভবত অন-লাইন ভিত্তিক বিজ্ঞাপনি কোম্পানীর মধ্যে Google AdSense হচ্ছে সবচেয়ে পরিচিত এবং জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক। বিশেষ করে অধিকাংশ নতুন ব্লগাররা Google AdSense ব্যতীত অন্য কোন ধরনের অন-লাইন বিজ্ঞাপন সম্পর্কে ধারনাই নেই। Google AdSense এ বিজ্ঞাপন দাতা এবং বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশী হওয়াতে এবং বিশ্বস্ততার কারনে এটি সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একজন নতুন ব্লগারের জন্য AdSense এর মাধ্যমে অন-লাইন হতে ভালমানের টাকা আয় করার সবচাইতে সহজ এবং বিশ্বস্ত একটি প্লাটফর্ম।

সাধারণত Google AdSense ব্লগ এবং কনটেন্টের কোয়ালিটির উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে এবং ক্লিক প্রতি (CPC) মূল্য প্রদান করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্লগের বিজ্ঞাপনের উপর যত বেশী Unique ক্লিক পড়বে, আপনার ব্লগের আয় তত বেশী হবে। এ ছাড়া Google AdSense ব্লগের Page View (CPM) হিসেব করেও বিজ্ঞাপনের মূল্য প্রদান করে থাকে। এটির মূল্য ব্লগের র‌্যাংক এবং কনন্টের Value এর উপর ডিপেন্ড করে। আমরা ইতিপূর্বে Google AdSense নিয়ে একটি সিরিজের মাধ্যমে কয়েকটি পোষ্ট শেয়ার করেছি। আপনি উপরের লিংক থেকে সবগুলি পোষ্ট পড়ে নিলে অল্প দিনে AdSense অনুমোদন করে নিতে সক্ষম হবেন।

 BuySellAds

এটিও একটি উন্নতমানের High Paying বিজ্ঞাপনি সংস্থা। তবে BuySellAds এর পলিসি এবং বিজ্ঞাপনের মূল্য Google AdSense এর চাইতে সম্পূর্ন ভিন্ন। সাধারণত একটি ব্লগে যখন প্রচুর পরিমানে ভিজিটর থাকে তখন ব্লগের মালিক ব্লগের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞাপনের স্থান হিসেবে নির্ধারিত মাপের Space তৈরী করে BuySellAds পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। তখন তারা যদি আপনার ব্লগটি তাদের বিজ্ঞাপনের জন্য উপযুক্ত মনে করে, তাহলে আপনার ঐ বিজ্ঞাপনের Space গুলি নির্ধারিত সময়ের জন্য বিভিন্ন দামে বিক্রি করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি Google AdSense এর চাইতে অনেক বেশী পরিমানে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

তবে Google AdSense অনুমোদন করা যতটা না কঠিন তার চাইতে অনেক বেশী কঠিন BuySellAds অনুমোদন করা। আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি যখন প্রচুর পরিমানে ভিজিটর বাড়তে থাকবে, কেবল তখনই আপনি BuySellAds অনুমোদন পাওয়ার আশা করতে পারেন। সাধারণত কারো ব্লগে যখন মাসিক ৫০/৬০ হাজার ইউনিক Page View থাকে, তখন ব্লগটি BuySellAds এ আবেদন করার যোগ্য হয়েছে বলে ধরতে পারবেন।

 Affiliate Ads

এটি হচ্ছে কমিশন ভিত্তিক অন-লাইন বিজ্ঞাপন। Affiliate Marketing এমন একটি মাধ্যম যেখানে পাবলিশার এবং প্রোডাক্ট প্রস্তুতকারি একত্রে সম্মেলিত হয়ে প্রোডাক্ট মার্কেটিং ও বিক্রি করে প্রফিট ভাগাভগি/কমিশন করে নেয়।

মনেকরুন আপনার একটি ভালমানের ব্লগ আছে, যেখানে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে লোক ভিজিট করে। তাহলে আপনি আপনার ব্লগের কনটেন্ট রিলেটেড বিজ্ঞাপন দিয়ে ভিজিটরকে আকৃষ্ঠ করে প্রোডাক্ট প্রস্তুতকারি/বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দিলেন। ফলে আপনার ব্লগের মাধ্যমে ঐ প্রতিষ্ঠান তার কিছু প্রোডাক্ট বিক্রি করে নিল। এ ভাবে ভিজিটর প্রদান বা প্রোডাক্ট বিক্রির চুক্তি আনুযায়ী আপনি পেমেন্ট গ্রহন করবেন। Affiliate Marketing বিষয়টির জনপ্রিয়তা দিনের পর দিন বেড়েই চলছে।

সর্বশেষঃ আমরা বর্তমান সময়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং সহজ বিষয়গুলির মাধ্যমে পার্সনাল ব্লগারদের কয়েকটি আয়ের উৎস সম্পর্কে অবগত করার চেষ্টা করেছি। আপনি যদি ব্লগে নিয়মিতভাবে ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করার পাশাপাশি যথারীতিনুসারে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ করে আপনার ব্লগে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর বৃদ্ধি করে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারেন, তাহলে একসাথে ০৩ টি বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে Smart Amount Income করে নিতে পারবেন।

গুগল AdSense CPC, Page RPM ও Page CTR কি?

ইতোপূর্বে আপনারা সবাই নিশ্চয় অবগত হয়েছেন যে, সম্প্রতি বাংলা কনটেন্টযুক্ত ওয়েবসাইটে গুগল এ্যাডসেন্স সাপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে এ্যাডসেন্স তাদের অফিসিয়াল ব্লগে ঘোষনা দিয়েছে। তবে এখনো এ্যাডসেন্সের সকল বিষয় বাংলা সাইটের জন্য Compatible হয়নি বিধায় অনেকে বাংলা সাইট থেকে এ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করে সফল হতে পারছেন না। তবে খুব শীঘ্রই সকল জঠিলতা কাঠিয়ে বাংলা ওয়েবসাইটে Google AdSense অনুমোদন করবে বলে আমরা আশা করছি। সে জন্য আপনার দীর্ঘ পরিশ্রমের বিনিময়ে তৈরি বাংলা ওয়েবসাইট থেকে এ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই ওয়েবসাইটকে এ্যাডসেন্সের উপযোগী করে নিবেন।
গুগল AdSense CPC, Page RPM ও Page CTR কি?
আজ আমি যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি সেটি অত্যান্ত সহজ কিন্তু এ্যাডসেন্স পাবলিশারদের জন্য খুবই জরুরী একটি বিষয়। অনেকে এ সহজ বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে না জানার কারনে তাদের এ্যাডসেন্স একাউন্ট হতে আয় বৃদ্ধি করতে পারেন না। গুগল মূলত CPC ও RPM হিসেব করে এ্যাডসেন্স পাবলিশারদের বিজ্ঞাপনের জন্য টাকা প্রদান করে থাকে। সেই ক্ষেত্রে যার ওয়েবসাইটের CPC ও RPM Rate যত বেশী হবে তার ওয়েবসাইটের ইনকাম তত বেশী হবে। এই সহজ তিনটি বিষয় নিয়ে যাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, তারা আজকের এই পোষ্টটি মনোযোগ সহকারে পড়লে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

গুগল এ্যাডসেন্স থেকে আয় বৃদ্ধি করার প্রধান এবং একমাত্র উপায় হচ্ছে ব্লগের ট্রাফিক বৃদ্ধি করা। যার ব্লগে যত বেশী ভিজিটর থাকবে এ্যাডসেন্স হতে সে তত বেশী আয় করতে সক্ষম হবে। পোষ্টের মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার পূর্বে এটি বিষয় বলে রাখছি যে, আমাদের আজকের পোষ্টের মূল বিষয় CPC ও RPM বৃদ্ধি করা নয়, শুধুমাত্র গুগল AdSense CPC, Page RPM ও Page CTR সম্পর্কে বেসিক ধারনা নেওয়া। পরবর্তীতে কোন একদিন CPC ও RPM বৃদ্ধি করা সংক্রান্তে একটি পোষ্ট শেয়ার করব।

 CPC, Page RPM ও Page CTR কি?

আমরা আজ এই তিনটি বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলাদা আলাদা অংশে ভাগ করে আলোচনা করব। তবে তার পূর্বে এগুলির সাথে সম্পৃক্ত আরো কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলি না জানলে বা পরিষ্কারভাবে ধারনা না নিলে আপনার কনসেপ্ট ক্লিয়ার হবে না।
  • Click কিঃ গুগল এ্যাডসেন্সের ক্ষেত্রে Click বলতে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন ক্লিককে বুঝানো হয়। এ ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের কতগুলো পেজে ক্লিক হয়েছে সেটি নির্দেশ করে না।
  • Impression কিঃ এটি দ্বারা আপনার ব্লগের প্রত্যেকটি Page View কে বুঝানো হয়ে থাকে। অধীকন্তু আপনার ব্লগের Page View, Ad View সহ কোন Individual Ad View কেও নির্দেশ করে। সাধারণত Impression তিন ধরনের হয়ে থাকে, যথা-Page views, Page impression ও Ad impression.
  • Page views কিঃ Page views দ্বারা বুঝানো হয়ে থাকে আপনার কাঙ্খিত ব্লগের পেজ এর মাধ্যমে ভিজিটর কতটি বিজ্ঞাপন দেখতে পেয়েছে। ধরুন আপনার ব্লগের একটি পেজে মোট ৩ টি বিজ্ঞাপন রয়েছে, কিন্তু ভিজিটর ঐ পেজের সবগুলি বিজ্ঞাপন দেখেনি অর্থাৎ একটি বিজ্ঞাপন নিচের দিকে থাকার কারনে সেটি ব্রাউজারের উপরে উঠেনি। সে ক্ষেত্রে এখানে আপনার Page views হিসেবে ২ গণনা করা হবে।
  • Page impression কিঃ Page views এবং Page impression একই জিনিস। দুটি দ্বারা প্রায় একই ধরনের বিষয় বুঝানো হয়ে থাকে।
  • Ad impression কিঃ এটি দ্বারা আপনার ব্লগের প্রত্যেকটি পেজের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের হিসাব গণনা করা হয়। ধরুন আপনার ব্লগের একটি পোষ্টে ৩ টি বিজ্ঞাপন রয়েছে এবং পোষ্টটি সর্বমোট ৫ বার ভিজিট করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে Ad impression হিসাব করা হবে ৩x৫=১৫ অর্থাৎ কাঙ্খিত পোষ্টের ১৫ Ad impression গণনা করা হবে।
গুগল AdSense CPC, Page RPM ও Page CTR কি?

     CTR (Click Through Rate) কি?

    একটি ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনের মোট ভিউ এর মধ্যে কতবার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা হয়েছে সেটি বুঝাতে CTR ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ হিসেবে- ধরুন আপনার ব্লগের বিভিন্ন পেজ ১০০ বার ভিউ হয়েছে এবং Add এ মাত্র ১০ জন ভিজিটর ক্লিক করেছে। সে ক্ষেত্রে আপনার CTR হবে ১০% । যদি আপনার ব্লগের পেজ ভিউ হয় ১০০ এবং ৫০ বার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা হয়ে থাকে, তবে আপনার CTR দাড়াবে ৫০%। এই CTR দ্বারা শুধুমাত্র আপনার বিজ্ঞাপনের মোট ভিজিটরের ভিউয়ের ক্লিক সংখ্যা হিসাব করা হয়।

     CPC (Cost Per Click) কি?

    Cost Per Click সম্পর্কে বেশী কিছু বলার প্রয়োজন নাই। কারণ এটি দ্বারা কি বুঝানো হয় তা আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন। আপনার বিজ্ঞাপনের প্রতি Click এর কারনে এ্যাডসেন্স আপনাকে কত ডলার পরিশোধ করবে সেটি বুঝানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যার ক্লিট রেট যত বেশী হবে তার আয়ও তত বেশী হবে। ধরুন-আপনার CPC রেট 0.03$, সে ক্ষেত্রে আপনি প্রতি এড Click এ পাবেন 0.03$ ডলার।

     RPM (Revenue Per Mile) কি?

    এটি দ্বারা একটি ব্লগের বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক ব্যতীত শুধুমাত্র প্রতি ১০০০ পেজ ভিউ হিসেবে কত ডলার দেওয়া হবে সেটি গণনা করা হয়। ধরুন- আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপনের RPM 1.25$, এ ক্ষেত্রে গুগল আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপনের প্রতি ১০০০ বার ভিউ এর জন্য 1.25$ ডলার পরিশোধ করবে।

     CTR, CPC ও RPM এর সর্বমোট হিসাবঃ

    ইতোপূর্বে আপনি উপরের তিনটি বিষয় থেকে পরিষ্কার ধারনা পেয়েছেন যে, Google AdSense কিভাবে হিসেব করে বিজ্ঞাপনের জন্য টাকা পরিশোধ করে এবং কিভাবে আপনার এ্যাডসেন্সের আয়ের পরিমান হ্রাস ও বৃদ্ধি পায়। এখন আমি উদাহরনের মাধ্যমে তিনটি বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব।

    উদাহরণ- মনেকরুন আপনার ব্লগে প্রতি মাসে এক লক্ষ পেজ ভিউ হয় এবং আপনার ব্লগের CTR ৩%। অর্থাৎ প্রতি একশত পেজ ভিউ এর মধ্যে মাত্র তিন জন আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে। এ ক্ষেত্রে আপনার নীট CTR হবে (মোট ভিউ x CTR ÷ ১০০) অর্থাৎ (১০০০০০x৩÷১০০) = ৩০০০ বার। আপনার ব্লগের এক লক্ষ পেজ ভিউ এর মধ্যে ৩০০০ জন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেছে। সেই হিসাবে আপনার ব্লগের CPC রেট 0.03$ হয়ে থাকলে মোট ক্লিক রেট হবে (৩০০০x০.৩) = ৯০ ডলার। অর্থাৎ এক লক্ষ ভিউয়ার এর মধ্যে ৩০০০ বিজ্ঞাপন ক্লিক এর কারনে গুগল আপনাকে ৯০ ডলার পরিশোধ করবে।

    অন্যদিকে আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপনের RPM 1.25$ হলে আপনি মোট ভিউ হিসাব করে (মোট ভিউ ÷ ১০০০ x ১.২৫) অর্থাৎ (১০০০০০ ÷ ১০০০ x ১.২৫) = ১২৫ ডলার। CTR ব্যতীত শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের ভিউয়ের জন্য গুগল আপনাকে আরো ১২৫ ডলার পরিশোধ করবে। সেই হিসেবে দেখা যায় কেউ যদি উপরোক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্লগের সমন্বয়ে এক লক্ষ ভিউয়ার পায়, তাহলে সে গুগল এ্যাডসেন্স থেকে মাসে ৯০ + ১২৫ = ২১৫ ডলার আয় করতে সক্ষম হবে।

    সর্বশেষঃ উপরে প্রদত্ত হিসাব এবং AdSense CPC, Page RPM ও Page CTR থেকে আপনি বুঝতে পারছেন যে, আপনি কেন গুগল এ্যাডসেন্স থেকে কম উপার্জন করছেন বা অন্যকেউ কম ভিজিটর পেয়েও আপনার চাইতে বেশী আয় করছে। আপনার ব্লগের CPC, Page RPM ও Page CTR যত বেশী হবে এ্যাডসেন্স থেকে তত বেশী আয় করতে পারবেন। সাধারণত ব্লগের কনটেন্টের মান, র্যাংকিং এবং বিজ্ঞাপনের লোকেশনের উপর ভিত্তি করে CPC ও RPM কম বেশী হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে আপনি ভালমানের কনটেন্টের সমন্বয়ে উন্নত দেশের বিজ্ঞাপনকে টার্গেট করতে পারলে এ্যাডসেন্স CPC ও RPM বৃদ্ধি করে ব্লগের আয় বাড়াতে পারবেন।

    প্রযুক্তি ডট কম যেভাবে Google AdSense অনুমোদন পেয়েছে!


    আমাদের ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন হওয়ার পর অনেকে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ফেইসবুকে, মোবাইলে ও মেইল করে জানতে চেয়েছিলেন যে, কিভাবে আমাদের ব্লগের এ্যাডসেন্স অনুমোদন করেছি এবং কি কি ধাপ অনুসরণ করেছি। আবার কেউ কেউ এ বিষয়ে একটি পোষ্ট করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি তাদের সবাইকে এ নিয়ে একটি বিস্তারিত পোষ্ট করার আশ্বাস দিয়েছিলাম। প্রফেশনাল লাইফে ব্যস্ততার কারণে সঠিক সময়ে এ বিষয়ে পোষ্ট শেয়ার করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।
    প্রযুক্তি ডট কম যেভাবে Google AdSense অনুমোদন পেয়েছে!
    আপনারা সবাই জানেন যে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে গুগল তাদের অফিসিয়াল এ্যাডসেন্স ব্লগে বাংলা ভাষায় এ্যাডসেন্স সাপোর্টের ঘোষনা দিয়েছিল। সেই সাথে বাংলা ব্লগাররা গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য আশার আলো দেখতে শুরু করে, কিন্তু তাৎক্ষনাত এ্যাডসেন্স পাওয়ার আবেদন করে অনুমোদন না হওয়ার অনাকাঙ্খিত মেইল পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। আমি নিজেও খবরটা শুনার পর এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করে তিন দিন পর যে রিপ্লে মেইল পেয়েছিলাম তা দেখে খুবই অবাক এবং হতাশ হয়েছিলাম।

    আমি আজ আমাদের ব্লগে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার সাথে সাথে কিছু এ্যাডভ্যান্স টিপস শেয়ার করব। আশা করছি আমাদের এ্যাডসেন্স পাওয়ার গল্প আপনাদের ব্লগে এ্যাডসেন্স বিষয়ে অনুপ্রাণিত করতঃ দ্রুত অনুমোদন পেতে সাহায্য করবে।

     কিভাবে আমরা ব্লগিং শুরু করেছিলাম?

    আমাদের ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পূর্বে ব্লগের ডোমেন নির্বাচন সহ ব্লগ চালু করার কিছু গল্প আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
    • ব্লগিং বিষয়ে আমার গল্পঃ ছোট বেলা থেকে আমার ভীতরে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সম্পর্কে এক ধরনের আগ্রহ কাজ করত। সেই সময় আমি ইংরেজী খুব বেশী বুঝতাম না বিধায় বিভিন্ন বাংলা ব্লগ থেকে প্রযুক্তি সংক্রান্ত নানা বিষয় পড়তাম। এ ভাবে বাংলা ব্লগ পড়তে পড়তে জানার আগ্রহটা দিন দিন বাড়তে থাকে। এক সময় প্রযুক্তি সংক্রান্ত বাংলা ব্লগগুলির গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল পোষ্ট পড়া শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আমি প্রযুক্তি সংক্রান্ত ভালমানের ইংরেজী ব্লগ পড়তে শুরু করি। সেই জানার আগ্রহ থেকে নিজের একটি পার্সোনাল ব্লগ তৈরি করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। তবে ব্লগিং কিভাবে শুরু করব, কোন প্লাটফর্মে ব্লগিং করব, কোন ধরনের টপিক নিয়ে কাজ করব ও কিভাবে ব্লগিং করলে অনলাইন থেকে ইনকাম করা যাবে সে বিষয়ে পরিষ্কার কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে পারছিলাম না। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম গুগল ব্লগার দিয়ে ইংরেজীতে ব্লগিং শুরু করব, কিন্তু কি ধরনের টপিক নিয়ে কাজ করব সি বিষয়েও কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে পারছিলাম না। কারণ ব্লগিং করার জন্য যে জ্ঞানের প্রয়োজন হয় তার কোনটি সম্পর্কে আমার পরিপূর্ণ ধারনা ছিল না। অবশেষে অনলাইন থেকে বিভিন্ন ব্লগের ভালমানের কনটেন্ট কপি করে গুগল ব্লগার এর ব্লগস্পট ডোমেন নিয়ে কাজ শুরু করি। প্রায় ৩০/৪০ টি পোষ্ট করার পর যখন গুগল এ্যাডসেন্সের আবেদন করি তখন এ্যাডসেন্স কনটেন্ট কপিরাইটের জন্য আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেয়। এভাবে প্রায় ৩/৪ বার আবেদন করে প্রত্যেকবার ফলাফল একই পেয়ে বুঝতে পারলাম কপিরাইট কনটেন্ট দিয়ে কোনভাবে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া সম্ভব নয়। তখনই ব্লগটি ডিলিট করে নিজে থেকে কিছু করার চেষ্টা করি।
    • প্রযুক্তি ডট কম এর গল্পঃ আমাদের এই ব্লগটি চালু করার পূর্বে আমি একটি কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে HTML ও CSS বিষয়ে ছয় মাসের কোর্স সম্পন্ন করে নেই। সেখান থেকে HTML ও CSS বিষয়ে মোটামোটি ভাল ধারণা অর্জণ করতে সক্ষম হই। পরবর্তীতে অনলাইনে W3School হতে ওয়েব ডিজাইনের এ্যাডভ্যান্স বিষয়গুলি আয়ত্ত করে নেই। ওয়েব ডিজাইনের এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি সিদ্ধান্ত নেই যে, ওয়েব ডিজাইন, এসইও এবং প্রযুক্তি বিষয়ে একটি বাংলা ব্লগ চালু করব। সেই সময় অর্থাৎ ১ মার্চ ২০১৫ তারিখে আমি ও আমার চাচাত বোন আফসানা মিম মিলে “প্রযুক্তি ডট কম” বাংলা ব্লগটি চালু করি। চালু করার কিছু দিনের মধ্যে অনেক বাংলা ব্লগারদের সাড়া পেয়েছিলাম। তখন ৪/৫ জন বাংলা ব্লগার আমাদের ব্লগে গ্যাস্ট ব্লগার হিসেবেও কাজ করেছিলেন, কিন্তু তারা কেউ খুব বেশী দিন নিয়মিত না থাকার কারণে অবশেষে ব্লগ থেকে রিমুভ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমরা যখন এই ব্লগটি চালু করি তখনো Techtunes, Some Where In Blog ও হাতে গণা আরো কিছু ব্লগ ছাড়া প্রযুক্তি বিষয়ের তেমন কোন বাংলা ব্লগ ছিল না। বিশেষ করে গুগল ব্লগার বিষয়ে বাংলা কোন ব্লগ ছিলই না। সে জন্য মোটামোটি ভিজিটর ও পাঠকদের সাড়া পাওয়ায় কাজ করতে আগ্রহ পেয়েছিলাম। উল্লেখ্য যে, Copyscape এর রিপোর্ট অনুসারে বর্তমানে আমাদের ব্লগে ৮৭% ইউনিক কনটেন্ট রয়েছে। সবগুলো পোষ্ট নিজ হাতে লেখা সত্বেও ১৩% আর্টিকেল কোন না কোনভাবে অন্য ব্লগ এবং ওয়েবসাইটের সাথে মিলে গেছে!!!
    • আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাঃ আমাদের ব্লগে প্রযুক্তি সংক্রান্ত আরো কিছু বিষয় নিয়ে আর্টিকেল পাবলিশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে Windows, Android ও WordPress টপিকগুলি যুক্ত করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতে রয়েছে, কিন্তু কোন ভালমানের লেখক না পাওয়ার কারনে এখনো বিষয়গুলি সংযোজন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়গুলি অবশ্যই আমাদের ব্লগে সংযুক্ত করা হবে। আপনারা যদি কেউ উপরোক্ত বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী থাকেন তাহলে আমাদের ব্লগের যোগাযোগ ফরম এর মাধ্যমে জানাতে পারেন।

     কিভাবে আমরা এ্যাডসেন্স পেলাম?

    আমরা যখন এই ব্লগটি চালু করেছিলাম তখন বাংলা ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্স সাপোর্ট করত না, অর্থাৎ বাংলা ব্লগ থেকে ‍গুগল এ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করার কোন সুযোগ ছিল না। তারপরও আমরা ভবিষ্যতে গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার আশা নিয়ে কাজ করে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। বাংলা ভাষায় গুগল এ্যাডসেন্স সাপোর্ট করার বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে গুগল এ্যাডসেন্স টিমের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছি, কিন্তু তারা এ বিষয়ে আমাকে কোন প্রকার প্রতি উত্তর দেয়নি। অবশেষে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে তারা বাংলা ভাষাকে সাপোর্ট দেয়।

    গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার আগে কিভাবে একটি ব্লগ সেটআপ করবেন বা কি কি এসইও অনুসরণ করবেন সে বিষয়ে আমরা ইতোপূর্বে ব্লগে বিস্তারিত শেয়ার করেছি। সে জন্য এ বিষয় নিয়ে নতুন করে কিছু লিখতে চাইছি না। আপনি আমাদের ব্লগের পোষ্টগুলি পড়লে এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য কি কি করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এখানে শুধুমাত্র আমাদের ব্লগে এ্যাডসেন্স পাওয়ার গল্প নিয়ে আলোচনা করব। আবেদনের প্রক্রিয়া থেকে আপনার বাংলা ব্লগের সমস্যা সম্পর্কে কিছুটা ধারনা অর্জণ করতে পারবেন।
    • প্রথম আবেদনঃ সেপ্টেম্বর মাসের ২৬ তারিখে বাংলা ভাষায় গুগল এ্যাডসেন্স সাপোর্টের ঘোষনা দেওয়ার দুই দিন পর এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করি। আবেদন করার ঠিক তিন দিন পর Language Unsupported বলে গুগল এ্যাডসেন্স আমাকে জানায়। বিষয়টি দেখে অবাক হওয়ার পাশাপাশি কিছুটা হাসি পেয়েছিল। তখন ভেবেছিলাম তারা হয়ত এখনো প্রস্তুত নয় বিধায় এ ধরনের সমস্যার কথা বলছে। সেই সাথে কনফিডেন্স ছিল যে, তারা আমার ব্লগের কনটেন্ট বা ব্লগ নিয়ে কোন সমস্যার কথা জানায়নি। সেই সময়ে অন্যরা Language Unsupported এর পাশাপাশি আরো বিভিন্ন সমস্যা আছে বলে মেইল পায়। এ দিক দিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে, ভবিষ্যতে তারা আমার ব্লগকে অনুমোদন করবে।
    • দ্বিতীয় আবেদনঃ প্রথম আবেদনের মেইল পাওয়ার ৪/৫ দিন পর আবার এ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করি। সে সময় আবারো তিন দিন পর Language Unsupported বলে জানায়। ঠিক তার এক দিন পর একজন ব্লগার জানান যে, তার বাংলা ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়েছে। যথারিতী আমি আবারও আবেদন করি, কিন্তু তিন দিন পর ফলাফল সেই একই হয়। তখন সিদ্ধান্ত নেই বাংলা ব্লগে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হচ্ছে এমন নির্ভরযোগ্য সংবাদ না পাওয়া পর্যন্ত আবেদন করব না। 
    • তৃতীয় আবেদনঃ তৃতীয় বার যখন আবেদন করি তখন দেখতে পাই যে, “এসো বন্ধু” নামে একটি বাংলা ব্লগ তাদের ব্লগে এ্যাডসেন্স ব্যবহার করছেন। সেই ব্লগের এ্যাডমিনের সাথে যোগাযোক্রমে জানতে পারি তিনি বাংলা ব্লগ দিয়ে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পেয়েছেন। তখন আমি আবারও এ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করি। সেই আবেদন করার ৫/৬ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কোন রিপ্লে মেইল পাইনি। সেই সময়ে আরো অনেক বাংলা ব্লগার বলেছিলেন তাদেরও একই সমস্যা হচ্ছে। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম এই এ্যাডসেন্স একাউন্টটি বাতীল করে নতুন একটি জিমেইল আইডি খোলে আবার আবেদন করব। তখন সম্পূর্ণ নতুন ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে নতুন আইডি দিয়ে এ্যাডসেন্স এর আবেদন করি। নতুন আইডি থেকে আবেদন করার দুই দিন পর রিপ্লে মেইলে আমার এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়নি মর্মে জানায়। কারণ হিসেবে বলে আমার ব্লগে পর্যাপ্ত কনটেন্ট নেই, পোষ্টে অতিরিক্ত Image রয়েছে এবং সাইটের নেভিগেশন ভালো না। এ সব বিষয় দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। কারণ আমার ব্লগে পর্যাপ্ত কনটেন্ট, Image ও নেভিগেশন কোনটির সমস্যা ছিল না। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম ভালোমানের নতুন পাঁচটি আর্টিকেল পাবলিশ করব এবং পাঁচ দিন পর আবার আবেদন করব। কিন্তু চার দিন পর গুগল এ্যাডসেন্স আমাকে একটি মেইল দিয়ে জানায় যে, আমার ব্লগের এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়েছে। অথচ আমি তখন এ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করিনি, কিন্তু এ্যাডসেন্স একাউন্টে লগইন করে দেখি অনুমোদন হয়নি।
    • শেষ আবেদনঃ উপরোক্ত সমস্যাটি পাওয়ার সাথে সাথে আমি আবারও গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করি। আবেদন করার পর দিনই গুগল আমাকে মেইল করে জানায় আমার ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়েছে।
    সর্বশেষঃ আসলে গুগল এ্যাডসেন্স সাপোর্ট করার ঘোষনা দেওয়ার পর পুরোপুরি প্রস্তুত হতে সময় নিয়েছিল বিধায় কিছু দিন সমস্যা হয়েছিল। মোট চার বার আবেদন করার পর আমাদের ব্লগে এ্যাডসেন্স অনুমোদন করতে সর্বমোট ২৯ দিন সময় লেগেছে। তবে এখন যাদের ব্লগে ভালমানের আর্টিকেল রয়েছে তারা এই ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে না। আপনি যদি ভলমানের ইউনিক আর্টিকেল লিখে একটি ডট কম ডোমেন নিয়ে আবেদন করেন তাহলে অল্প দিনেই এ্যাডসেন্স অনুমোদন করতে পারবেন।

    প্রশ্নের আলোকে গুগল AdSense সংক্রান্ত সকল সমস্যার সংক্ষিপ্ত সমাধান!


    গুগল এ্যাডসেন্স হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা যেটি গুগল নিজে পরিচালনা করছে। ব্লগ এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপ ব্যবহার করে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জনের যত উপায় আছে তার মধ্যে AdSense হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। তারপরও সবার মনে কিছু প্রশ্ন জাগে যে, এটা কি আসলে সত্য বা সম্ভব? আমি কি সব সময় Google AdSense থেকে টাকা উপর্জন করতে পারবো? আমি কি ওখান থেকে ‍উপার্জিত টাকা দিয়ে সব কিছু চালিয়ে যেতে পারবো?
    প্রশ্নের আলোকে গুগল AdSense সংক্রান্ত সকল সমস্যার সংক্ষিপ্ত সমাধান!
    আমাদের ব্লগে ইতোপূর্বে গুগল এ্যাডসেন্স বিষয়ে অনেক পোষ্ট রয়েছে। তারপরও ফেইসবুক কমিউনিটি পেজে অনেকে বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট প্রশ্ন করে থাকেন। অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় ঐ সহজ প্রশ্নগুলির উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যেতে হয়। সে জন্য আজ আমি সকল ছোট প্রশ্নগুলির উত্তর প্রশ্নভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সবার সমনে সহজ ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করব।

    পোষ্টটি শুরু করার পূর্বে আপনাদের একটি বিষয় জানিয়ে দিচ্ছি যে, গুগল এ্যাডসেন্স গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখ হতে বাংলা ভাষা সাপোর্ট করছে। বিষয়টি যারা এখনো জানেন না তারা অবগত হয়ে তাদের বাংলা ব্লগের মাধ্যমে গুগল এ্যাডসেন্সর জন্য আবেদন করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, আমাদের প্রযুক্ত ডট কম ব্লগটিও বাংলা কনটেন্ট দিয়ে গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন করে গুগল এর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করছে।

     গুগল এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত বেসিক প্রশ্নঃ

    • প্রশ্নঃ গুগল এ্যাডসেন্স কি?
    • উত্তরঃ গুগল এ্যাডসেন্স হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক বিজ্ঞাপন। যার মাধ্যমে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজনীয় পন্যের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারেন। অন্যদিকে এ্যাডসেন্স পাবলিশাররা তাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ইনকাম করতে পারেন।
    • প্রশ্নঃ গুগল এ্যাডসেন্স থেকে কি আয় করা সম্ভব?
    • উত্তরঃ হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব।
    • প্রশ্নঃ বাংলা ওয়েবসাইট থেকে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া যায়?
    • উত্তরঃ আগে পাওয়া না গেলেও সম্প্রতি গুগল বাংলা ওয়েবসাইটে অনুমোদন দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের ব্লগকে অনুসরণ করতে পারেন।
    • প্রশ্নঃ এ্যাডসেন্স অনুমোদনের জন্য বাংলা ওয়েবসাইট ভাল নাকি ইংরেজী ওয়েবসাইট ভাল?
    • উত্তরঃ অনুমোদনের ক্ষেত্রে দুটি ভাষা সমান। তবে বাংলা ওয়েবসাইটের চাইতে ইংরেজী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেশী আয় করা যায়।
    • প্রশ্নঃ শুনলাম এশিয়া মহাদেশ থেকে এ্যাডসেন্স পাওয়া খুব কঠিন বিষয়?
    • উত্তরঃ এই তথ্যটি সঠিক নয়। একটি পরিপূর্ণ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্লগের মাধ্যমে যে কোন দেশ থেকে সহজে এ্যাডসেন্স অনুমোদন করা সম্ভব।
    • প্রশ্নঃ বাংলাদেশে নাকি ৬ মাসের পূর্বে এ্যাডসেন্স অনুমোদন করে না?
    • উত্তরঃ এটিও সঠিক নয়। তবে একটি ব্লগকে এ্যাডসেন্সের জন্য পরিপূর্ণ উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রায় ৬ মাসের অধিক সময় লেগে যায়। সে জন্য ব্লগের বয়স নূন্যতম ছয় মাস হওয়ার আগে এ্যাডসেন্সের আবেদন করতে অভিজ্ঞরা নিষেধ করেন। তবে এর আগে যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে ছয় মাসের পূর্বেই এ্যাডসেন্স পাওয়া সম্ভব।
    • প্রশ্নঃ আবেদন করার পূর্বে কমপক্ষে কতগুলো পোষ্ট থাকতে হবে?
    • উত্তরঃ ভালমানের আর্টিকেলের সমন্বয়ে কমপক্ষে ২৫/৩০ টি পোষ্ট রাখা প্রয়োজন।
    • প্রশ্নঃ প্রত্যেকটি পোষ্টের জন্য কি পরিমান আর্টিকেল হলে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়?
    • উত্তরঃ প্রত্যেকটি পোষ্টে ৪০০/৫০০ ওয়ার্ড রাখাটা ভাল।
    • প্রশ্নঃ কপি করা আর্টিকেল দিয়ে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া যায়?
    • উত্তরঃ আদৌ কেউ অনুমোদন পায়নি এবং ভবিষ্যতেও সম্ভব নয়!
    • প্রশ্নঃ কাষ্টম ডোমেন দিয়ে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়?
    • উত্তরঃ আগে পাওয়া যেত কিন্তু সম্প্রতি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি টপ লেভেলের ডোমেন নিয়ে তার পর এ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করার স্বপক্ষে গুগল নিজেও পরামর্শ দিচ্ছে।

     আবেদন করার পূর্বে করণীয় কি?

    • প্রশ্নঃ ব্লগার দিয়ে ব্লগিং করলে ভাল নাকি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করলে ভাল হয়?
    • উত্তরঃ আপনি যেটি দিয়ে ব্লগিং করেন না কেন এ্যাসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব পাবে।
    • প্রশ্নঃ কাষ্টম থিমস নিয়ে কাজ করব নাকি ডিফল্ট থিমস নিয়ে?
    • উত্তরঃ একটি ভালমানের কাষ্টম থিমস নিয়ে কাজ করাটাই উত্তম।
    • প্রশ্নঃ শুনেছি ব্লগস্পট দিয়ে ব্লগিং করলে নাকি ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না?
    • উত্তরঃ এটা ঠিক নয়। আপনার ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকলে ব্লগস্পট নিয়ে কাজ করে ভাল র‌্যাংক করা কোন ব্যাপারই না।
    • প্রশ্নঃ ডট কম ডোমেন ভাল নাকি ডট নেট হলে ভাল হয়?
    • উত্তরঃ আমি সবসময় ডট কম ডোমেন নেওয়ার পরামর্শ দেব।
    • প্রশ্নঃ কত অক্ষরের ডোমেন নেম হলে ভালো হয়?
    • উত্তরঃ পাঁচ অক্ষর থেকে শুরু করে পনের অক্ষরের মধ্যে রাখাটা ভাল।
    • প্রশ্নঃ কোন ধরনের টপিক নিয়ে কাজ করলে এ্যাডসেন্স দ্রুত অনুমোদন হবে?
    • উত্তরঃ গুগল সবসময় প্রযুক্তি বিষয় সংক্রান্ত ব্লগকে প্রধান্য দিয়ে থাকে?
    • প্রশ্নঃ নিস হিসেবে Blogspot টিউটোরিয়াল কেমন?
    • উত্তরঃ অবশ্যই ভাল। পাশাপাশি ওয়েব ডিজাইন এবং এসইও নিয়ে লিখতে পারলে দ্রুত এ্যাডসেন্স পাওয়ার আশা করতে পারেন।
    • প্রশ্নঃ এসইও করলে নাকি দ্রুত এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়?
    • উত্তরঃ সঠিকভাবে এসইও করা ব্লগকে এ্যাডসেন্স অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়ন করে। কারণ প্রোপার এসইও করা ব্লগে সার্চ ইঞ্জিন হতে ট্রাফিক বৃদ্ধি পায়।
    • প্রশ্নঃ ব্লগে About Us, Contact, Privacy Policy রাখা কি বাধ্যতামূলক?
    • উত্তরঃ এগুলো আপনার ব্লগ সম্পর্কে পাঠকদের স্বচ্ছ ধারনা দেয়। কাজেই এই পেজগুলি রাখলে ভাল ফলাফল পাবেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় ব্লগের এ পেজগুলি অনেক গুরুত্ব বহন করে।
    • প্রশ্নঃ নিউজ, ভিডিও এবং ফ্রি নেট বিষয়ে গুগল এ্যাডসেন্স  অনুমোদন হয় নাকি?
    • উত্তরঃ সার্চ ইঞ্জিনের কাছে এগুলোর গুরুত্ব খুবই কম। সে জন্য এই টপিক গুলিতে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয় না বল্লেই চলে। তবে জনপ্রিয় করতে পারলে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    • প্রশ্নঃ ইউনিক কনটেন্টের সাথে গুগল থেকে Image নিয়ে পাবলিশ করলে কোন সমস্যা হবে কি না?
    • উত্তরঃ অন্য ওয়েবসাইটের লগোযুক্ত ছবি ব্যবহার না করলে সমস্যা হবে না। তবে কেউ যদি তার ব্লগের ছবি সম্পর্কে রিপোর্ট করে, তাহলে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    • প্রশ্নঃ সাইটে পর্যাপ্ত ইউনিক আর্টিকেল রয়েছে কিন্তু ভিজিটর কম, এ ক্ষেত্রে কি অ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে?
    • উত্তরঃ পাওয়া যাবে, কারণ গুগল এ্যাডসেন্স সাইটের ট্রাফিককে খুব বেশী গুরুত্ব দেয় না। ভালমানের পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকলে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হবে।
    • প্রশ্নঃ ডট TK ডোমেন দিয়ে কি এ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে?
    • উত্তরঃ না।
    • প্রশ্নঃ এ্যাডসেন্সে আবেদন করার পূর্বে কি কি Check List তৈরি করা দরকার?
    • উত্তরঃ গুগল এ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই কিছু Check List তৈরি করা ভাল। যেমন-ব্লগের সকল পোস্ট ৮০-৯০ ভাগ ইউনিক কিনা এবং গুগল পলিসির ভিতরে আছে কিনা। ব্লগের সকল গুরুত্বপূর্ণ পেজ ঠিক আছে কিনা। ওয়েবসাইটে ২৫-৩০ টি পাষ্ট ঠিকমতো ইনডেক্স হচ্ছে কিনা। ব্লগের ডিজাইন এবং এসইও ফ্রেন্ডলি কিনা সেটা চেক করতে হবে। সাদা সিদে ন্যাভিগেশন এবং লেয়াউট এ সব দরকারি জিনিস রাখতে হবে। সার্চ ইঞ্জিনে কিছু Organic Keywords এ ভাল Rank করালে এক্সট্রা পায়রিটি পাওয়া যাবে। সবকিছু ঠিকমতো থাকলে অল্প দিনে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।

     হোস্টেড ও নন-হোস্টেড একাউন্ট কি?

    • প্রশ্নঃ Hosted AdSense বলতে কি বুঝানো হয়?
    • উত্তরঃ গুগল ব্লগার, YouTube এবং AdMob দ্বারা ব্যবহৃত এ্যাডসেন্স হচ্ছে Hosted AdSense.
    • প্রশ্নঃ Non Hosted AdSense বলতে কি বুঝায়?
    • উত্তরঃ নিজস্ব সাইট দিয়ে অনুমোদন পাওয়া গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট হচ্ছে Non Hosted AdSense.
    • প্রশ্নঃ Non Hosted AdSense এর জন্য Alexa rank কোন প্রভাব বিস্তার করে?
    • উত্তরঃ না।
    • প্রশ্নঃ বাংলাদেশ থেকে Non Hosted AdSense এর জন্য কোন Niche বেশী অনুমোদন হয়?
    • উত্তরঃ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে Smartphone Review, Education Result এবং Technology সাইট দিয়ে অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হয়।
    • প্রশ্নঃ Hosted ও Non Hosted AdSense এর মধ্যে পার্থক্য কি?
    • উত্তরঃ এই দুটির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে Hosted শুধুমাত্র গুগলের ব্লগার, YouTube এবং AdMob এ ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে নিজস্ব সাইটে Non Hosted AdSense সর্বোচ্চ ৫০০ টি Website এ ব্যাবহার করা যায়।
    • প্রশ্নঃ Hosted Account কি Non Hosted Account এ Upgrade করা যায়?
    • উত্তরঃ হ্যাঁ করা যায়, গুগল পলিসি অনুসারে ব্লগ তৈরি করে আবেদন করে Hosted Account থেকে Non Hosted Account এ Upgrade করা যায়।

     এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত বিবিধ প্রশ্নঃ

    • প্রশ্নঃ আমি কি গুগল AdSense এর জন্য Sub Domain ব্যবহার করতে পারি?
    • উত্তরঃ হ্যাঁ পারেন, তবে আগে টপ লেভেল ডোমেইন দিয়ে অনুমোদন করাতে হবে, তারপর সাব ডোমেইন এ অ্যাডসেন্স ব্যাবহার করতে পারবেন ।
    • প্রশ্নঃ Troll সাইটে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন হবে এবং এ ক্ষেত্রে কি ধরনের আর্টিকেল প্রয়োজন?
    • উত্তরঃ যদি গুগলের নীতিমালা ভঙ্গ না করে, তবে ভালো মানের ২৫/৩০ টি পোস্ট দিয়ে অনুমোদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি যে কোন প্রোডাক্ট বেইজ ও ইনফরমেটিভ ব্লগ তৈরি করতে পারেন।
    • প্রশ্নঃ ব্লগের বেশীরভাগ ভিজিটর Facebook থেকে আসলে কি AdSense অনুমোদন সম্ভব?
    • উত্তরঃ এ্যাডসেন্স অনুমোদন দেবে। তবে ফেসবুকের ভিজিটরের চাইতে গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে আসা ভিজিটরের মূল্য বেশি। সে ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব দিতে হবে।
    • প্রশ্নঃ কিভাবে এ্যাডসেন্স ব্লক হওয়া থেকে রক্ষা করব এবং আয় বৃদ্ধি করব?
    • উত্তরঃ অ্যাডসেন্স ব্লক হওয়া থেকে বাঁচার জন্য এ্যাডসেন্সের পলিসি অনুসরণ করে ব্লগিং করতে হবে। আয় বৃদ্ধি করার জন্য ব্লগে ভিজিটর বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এ্যাডসেন্স CTR, CPC ও RPM রেট বৃদ্ধি করতে হবে।
    • প্রশ্নঃ ভালমানের আর্টিকেল মানে কি? ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন আর্টিকেলের কি কি গুন থাকা দরকার? আর্টিকেলের মান ভালো না খারাপ সেটা চেক করার কি কোন উপায় আছে?
    • উত্তরঃ আপাত দৃষ্টিতে ভালমানের আর্টিকেল বলতে ইউনিক ও গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলকে ‍বুঝায়? যে আর্টিকেল গুলির ডিমান্ড সর্বস্তরে রয়েছে, সেগুলিই হচ্ছে ভালমানের আর্টিকেল। Google Keyword Planner দিয়ে খুব সহজে আর্টিকেলের মান যাচাই-বাছাই করতে পারেন।
    • প্রশ্নঃ আমার ব্লগে যদি ৫০ ভাগ ইউনিক পোষ্ট থাকে, তবে কি অ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে? অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনটা বেশি জরুরি, ইউনিক পোস্ট  নাকি ভিজিটর?
    • উত্তরঃ এ ক্ষেত্রে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অ্যাডসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভিজিটরের চাইতে ইউনিক পোষ্টকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।
    • প্রশ্নঃ ব্লগের Privacy পেজ কিভাবে তৈরি করব? অনলাইনের বিভিন্ন টুল দিয়ে জেনারেট করে নিলে কোন সমস্যা হবে কি না?
    • উত্তরঃ অনলাইনের বিভিন্ন টুল দিয়ে জেনারেট করে Privacy পেজ তৈরি করতে পারেন। তবে আপনার ব্লগের বিষয়ে সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছুটা পরিবর্তন করবেন। এ পদ্ধতীতে কোন প্রকার সমস্যা হবে না।

     এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত বিষদ প্রশ্নঃ

    • প্রশ্নঃ আমার একটা ব্লগ আছে ব্লগার এ Domain এখনো Set করা হয়নি, কিছুদিন এর মধ্যে Domain Set করব। এখন পর্যন্ত ৫০ টা পোস্ট করা হয়েছে। সব পোস্ট ৮০% Unique. ব্লগে প্রতিদিন ১০০+ ভিজিটর আসে। ডোমেন Set করার কতদিন পর AdSense Apply করলে Approve পেতে পারি। আমার Content এর যদি কোনো Problem থাকে এবং আমি যদি সেটা একবার Apply করার পর বুজতে পারি এবং সেই Content গুলো Delete করে দিয়ে আবার Fresh কনটেন্ট পোস্ট করে পুনরায় Apply করি তাহলে কি Problem হবে কিংবা Approve হবে?
    • উত্তরঃ কোথায় ডোমেইন সেট করবেন? ব্লগারে? আমি বলবো না। নিজস্ব সাইট বানান। ডোমেইন সেট করলে এক মাস পরে এপ্লাই করে দেখুন। কনটেন্ট ভালো মানের হলে এপ্রুভ পেয়ে যাবেন। কপি পেস্ট মুক্ত ফ্রেশ কনটেন্ট। অবশ্যই গ্রামার, সেন্টেন্স এবং কতো % ইউনিক সেটা মাথায় রাখতে হবে, আশাকরি বুঝতে পেরেছেন। ডিলেট করলে বিপদে পড়বেন। 404 not Found আসবে আর সাইটের Rank হারাবেন। কনটেন্ট আপডেট কিংবা রি – রাইট করলে ভালো হবে।
    • প্রশ্নঃ ভাই Adsense পেতে সাইটের বয়স কত লাগবে? কতগুলো পোষ্ট আর কি রকম এসইও করা লাগবে?
    • উত্তরঃ গুগল এর মেইন শর্ত হচ্ছে হাই কুয়ালিটি ভালো মানের কনটেন্ট এবং ১ টা টপ লেভেল ডোমেইন দিয়ে সাইট বানাতে হবে। তারপর সাইটে ৪০-৫০ দিন সময় নিয়ে ৪০-৫০ টা ইউনিক আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। সাইটে About, Privacy, Contact us & DMCA পেজ গুলো ঠিক মতো পাবলিশ করতে হবে। সাইটের সকল পোস্ট Google Webmaster এ সাবমিট করতে হবে। তারপর হালকা পাতলা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করুন। তারপর সাইটের বসয় ৫০-৬০ দিন হলে গুগল অ্যাডসেন্স এপ্লাই করুন। অ্যাডসেন্স এপ্রুভ হতে সময় লাগবে না।
    • প্রশ্নঃ Google Adsense এর টাকা কিভাবে উঠানো যায়?
    • উত্তরঃ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের সবাই চেক দিয়ে টাকা ক্যাশ করাতাম। মাস খানিক সময় লাগতো টাকা ক্যাশ করতে। এখন EFT আছে, সরাসরি ৪-৫ দিনেই টাকা ব্যাংক এ চলে আসে। ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক দিয়ে টাকা উত্তোলন করা যায়।
    • প্রশ্নঃ হোস্টেড অ্যাডসেন্সে অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট মেথড হিসেবে DBBL Mobile Banking কিভাবে অ্যাড করা যায়? সাধারণত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অ্যাড করার জন্য ধারাবাহিকভাবে কি করতে হয়?
    • উত্তরঃ হোস্টেড অ্যাডসেন্সে অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট মেথড হিসেবে DBBL Mobile Banking হিসাবে অ্যাড করা যায়। Adsense & Domain Parking গ্রুপের কয়েক জন DBBL Mobile Banking দিয়ে টাকা তুলে। আমি কখনো ইউজ করি নাই। সম্ভবত Account No. এর জায়গায় Mobile Banking নাম্বার দিতে হয়। যারা ইউজ করে, তারা আরও বিস্তারিত বলতে পারবে।
    • প্রশ্নঃ অ্যাডসেন্স Approve পাওয়ার পর যদি আমি আমার সাইট এর Banner বা অন্য কোথাও সাইট এর Related Niche এর cpa বা অন্য কোন Product এর Promotion করি, তাহলে কি AdSense এর কোন Problem হবে?
    • উত্তরঃ Promotion/cpa তে যদি গুগল পলিসি ভঙ্গ করে এমন কিছু থাকে, তাহলে ব্যাবহার না করাই ভালো। তবে Amazon & Adsense একই সাইটে ব্যাবহার করা যায়। কোন সমস্যা হয় না।
    • প্রশ্নঃ আমার YouTube AdSense Account আছে। Non Hosted Ste এর জন্য কি আমি AdSense apply করতে পারব? এক্ষেত্রে কি কোন Problem এ পরতে হবে? YouTube and Website এর জন্য ২ টার Earning কি একসাথে দেখাবে, নাকি আলাদা আলাদা দেখাবে?
    • উত্তরঃ হ্যাঁ পারবেন। ঝামেলাযুক্ত কাজ। তবে এর চেয়ে নতুন নেওয়া অনেক সহজ । সব রিপোর্ট আলাদা দেখতে পারবেন।
    • প্রশ্নঃ বর্তমান ইউটিউব অ্যাডসেন্স কি ব্লগার এ ব্যবহার করা সম্ভব? যদি যায় তাহলে বর্তমানে কিভাবে করব?
    • উত্তরঃ সম্ভব না। ভালোমানের ব্লগ তৈরি করে Upgrade করে নিতে পারেন।
    • প্রশ্নঃ আমার যদি ইতোমধ্যেই একটি AdSense একাউন্ট থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে আমার ছোট ভাই আরেকটি একাউন্ট এপ্লাই করতে পারবে যদি বাড়ির এড্রেস একি হয়?
    • উত্তরঃ আলাদা সাইট, আলাদা কম্পিউটার আইপি, আলাদা ঠিকানা এবং আলাদা Payee Name দিয়ে সহজেই এপ্রুভ পাবেন। আশা করি কোন ঝামেলা হবে না।
    নোটঃ এই পোষ্টের সকল আর্টিকেল আমার নিজের লেখা নয়। পোষ্টের ৪০% আর্টিকেল জনাব রুবেল এর বাংলা ব্লগ “রুবেল এসবিএস” থেকে নেওয়া। তবে আমার পোষ্টটি শুরুর দিকে উনার ব্লগ থেকে কনটেন্ট নেওয়ার টার্গেট ছিল না। পোষ্টের কিছু আর্টিকেল লিখার পর অনলাইনে সার্চ করতে গিয়ে উনার পোষ্টটি পেয়ে যাই। যদিও আর্টিকেল আমি নিজেই লিখতে পারতাম কিন্তু পোষ্টের বেশীরভাগ লেখা উনার লেখার সহিত মিলে যেত। সে জন্য পোষ্টের শেষের আর্টিকেল নিজে না লিখে উনার ব্লগ থেকে নিয়েছি। মিঃ রুবেল এর ব্লগ পোষ্টের আর্টিকেল কপি করার তিন দিন আগে উনার অনুমতি চেয়ে একটি মেইল পাঠিয়েছিলাম কিন্তু উনি আমাকে হ্যাঁ কিংবা না কোন উত্তর দেননি। আমার মনেহয় উনি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্লগ থেকে দূরে আছেন বিধায় আমার মেইল পড়তে পারেননি। ভবিষ্যতে উনি আমার পোষ্টটির আর্টিকেলের Fair Usage Policy মানতে না চাইলে আমরা তার কনটেন্ট যে কোন সময় মুছে দেব।