- শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস ব্যাবহার করুনঃ এখনকার ফোনগুলি অনেকটাই আপনার PC র ন্যায় কাজ করে। তাই আপনার ফোনটিতও কম্পিউটারের মত যেকোন সময় ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্যাবহার করুন শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমি Avast, Kaspersky(Paid), QuickHeal Smartphone Securityএই তিনটি ব্যাবহার করার পরামর্শ দেব। তবে হ্যা কখনই কিন্তু একসাথে একটির বেশী অ্যান্টিভাইরাস ব্যাবহার করবেন না। এতে অনেক সমস্যার সৃস্টি হয়।
- কোন অ্যাপ ইন্সটল করার আগে সতর্ক হোনঃ অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য রয়েছে অসংখ্য সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন। অনেকসময় ব্যবহারকারী নিজের অজান্তেই ক্ষতিকর অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে ফেলেন । এ কারণে বিভিন্ন স্মার্টফোন নিরাপত্তা সংস্থা কোনো অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার আগে এর নির্মাতা ও প্রদানকারী সাইট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
- ও.এস সর্বদা আপডেট রাখুনঃ আমরা মাঝে মাঝেই নতুন নতুন আপডেট পাই। সেগুলি আসলে পুরোনো ভারসনের ফল্ট গুলো শুধরে দিয়ে আরো উন্নত করার জন্যই বানায় নির্মাতারা। একই সঙ্গে আপনার ফোনটিকে নতুন নতুন ভাইরাসের থেকে রক্ষা করার জন্যও বিশেষভাবে প্রোগ্রাম করে বানানো হয় এই আপডেট গুলি। তাই আপনার ফোনের ও.এস সর্বদা আপডেটেড রাখুন।
- সবসময় ডেটার ব্যাকআপ রাখুনঃ যে কোনো সময় নষ্ট, চুরি অথবা হারিয়ে যেতে পারেআপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি। সে ক্ষেত্রে আশঙ্কা রয়েছে আপনার মূল্যবান ও ব্যক্তিগত তথ্য হারিয়ে যাবার এবং অন্য কারও হাতে চলে যাওয়ার। এ ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য ব্যবহার করুন ব্যাকআপ। ফলে ফিরে পাবেন আপনার দরকারি তথ্যগুলো। আর যদি আপনার ফোনটি হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়, তাহলে ‘রিমোট-ওয়াইপ ফিচার’ ব্যবহার করে মুছে ফেলা যাবে ব্যক্তিগত তথ্য। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে। সুতরাং ব্যবহার করুন ফিচারটি এবং নিরাপদ রাখুন আপনার ফোন।
- এনক্রিপ্ট করে রাখুন সমস্ত ডেটাঃ এনক্রিপশন ব্যবহার করে ফোন ব্যাবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এনক্রিপশন ব্যবহার করে ডেটার নিরাপত্তা বাড়ানো যায় অনেকাংশে। এনক্রিপ্ট করা ডেটাতে প্রবেশ করতে পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয় । অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই সুবিধাটি পাওয়ার জন্য সেটিংস থেকে সিকিউরিটি অপশন সিলেক্ট করে এনক্রিপ্ট চালু করে নিতে পারেন আপনারা। আমি নিজেও এই ফিচারটা ব্যাবহার করে বিশাল বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি।
Friday, April 27, 2018
এন্ড্রয়েড ফোন সুরক্ষিত রাখার ৫ টি সহজ উপায়
অনেক দিন পর নতুন পোস্ট লিখতে বসলাম। এখন আমার টেস্ট Exam চলছে। তাছাড়া আরও কিছু সমস্যার কারনে আমি প্রযুক্তি ডট কম থেকে কিছু দিন দূরেই ছিলাম। এখন নিয়মিতই আমাকে পাবেন। যাই হোক এইবার কাজের কথায় আসি।
আমাদের মধ্যে প্রায় সকলেই অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যাবহার করি কারণ অ্যান্ড্রয়েড আই.ও.এস ছাড়া স্মার্টফোনের জগতে অন্য কোনো ভাল অপারেটিং সিস্টেম নেই। আর অ্যাপেল কেনার সাধ্য তো আর সবার নেই, সুতরাং অ্যান্ড্রয়েড ছাড়া গতি নেই।
ইদানিং স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বেশকিছু নতুন সুবিধা দিচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম। তবে নিঃসন্দেহে এর বেশকিছু নিরাপত্তার সমস্যাও আছে। আর স্মার্টফোনের নিরাপত্তার ব্যাপারে সবসময়ই বলা হয়, ব্যবহারকারী চাইলেই সুরক্ষিত রাখতে পারবেন নিজের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি। তাই আমি আজকে অ্যান্ড্রয়েড ফোন সুরক্ষিত রাখার ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। আশাককরি এই ৫ টি উপায় ফলো করলে অনেক সুরক্ষিত থাকবেন। নীচে এই ৫ টি উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি -
আজ তাহলে এই পর্যন্তই। এই সম্বন্ধে কিছু জানার থাকলে ফেসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আর হাতে সময় থাকলে একবার আমার ব্লগ থেকে ঘুরে আসতে পারেন। আরো গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে নিয়মিত আমাদের সাথে থাকুন।
কীভাবে আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের গতি বৃদ্ধি করবেন?
হ্যালো বন্ধুরা। কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালোই আছেন। আজকে আমার এই পোস্টের বিষয় হল কীভাবে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটির গতি বৃদ্ধি করবেন।
এখন অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে অনেক কিছুই করা যায়। দিন দিন এই ফোন গুলি অনেকটাই কম্পিউটারের মত হয়ে যাচ্ছে। আমরাও এখন ফোন দিয়ে অনেক ধরনের কাজ করি। কেউ মেসেজ পাঠাই, কেউ মেইল, কেউ কেউ সারাদিন গেম নিয়ে ব্যাস্ত, আবার কেউ বা শুধুই ফোন করি। আমি যেমন ব্লগিং করি ফোন দিয়ে আমার কম্পিউটার নেই তাই। কিন্তু এই এতসব কাজ করতে গিয়ে অনেকসময় আমাদের এই প্রিয় মুঠোফোনটির হাই প্রেসার উঠে যায়, মানে হ্যাং বা গতি কমে যায়। তাই আমি আজকে আপনার প্রিয় ফোনটিকে কিভাবে সর্বদা সুপারফাস্ট রাখবেন তা নিয়ে আলচনা করব।
- ফোন হ্যাং করার সবচেয়ে মুখ্য কারণ হল ফোনে অতিরিক্ত অ্যাপ ইন্সটল করা। আমি অনেককেই দেখি কোন কাজের জন্য একটা অ্যাপ ইন্সটল করলে সেটা কাজ শেষ হয়ে গেলেও ওইভাবেই রেখে দেয়। আর তারপর কোন কাজ করতে গেলেই ফোন শুধু হ্যাং করতে থাকে। তাই আপনার কাজে লাগেনা এমন অ্যাপ গুলি এখনি আনইন্সটল করে ফেলুন দেখবেন ফোনের গতি আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাবে।
- আপনার ফোনের Junk ফাইল গুলি এখনি ডিলিট করে ফেলুন। এই ফাইল গুলি আপনার ফোনটিকে অনেক ধীরগতির করে দেয়।
- আপনার ফোন যদি ৩২ জিবি পর্যন্ত expandable memory সাপোর্ট করে তাহলে কখনই কিন্তু ১৬ জিবির ওপরে memory card লাগাবেন না। এতে ফোনের গতি অনেক কমে যায়।
- ফোনের গতি বৃদ্ধির জন্য Clean Master, 360 Security, Omni Swipe এই অ্যাপ গুলির মধ্যে কোন একটা ব্যাবহার করুন। এই অ্যাপগুলি ফোনের স্পিড Boost করতে সাহায্য করে।
- লাইভ ওয়ালপেপার ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন। এই ওয়ালপেপার গুলি আপনি হয়তো আপনার ফোনটি কাউকে দেখানোর সময় সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যাবহার করতে পারেন। কিন্তু জেনে রাখবেন এই লাইভ ওয়ালপেপার গুলি আপনার ফোনের পারফমেন্সে ঘাটতির কারণ হতে পারে। তাই দেখা গেল দর্শক শুধু আপনার ফোনের রূপই দেখল, গুণটা আর দেখতে পেল না।
- Dj Maker, Dubstep, Video Editor এই জাতীয় অ্যাপগুলি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গতি অনেক কমিয়ে দেয়। তাই বিশেষ দরকার ছাড়া এই অ্যাপ গুলি ব্যাবহার না করাই শ্রেয়।
এই পোস্টে এই পর্যন্তই। খুব শিগগির আরো নতুন নতুন পোস্ট লিখব। সময় থাকলে আমার ব্লগ থেকে ঘুরে আসার অনুরোধ রইল। আর পড়ে ভাল লাগলে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। এত কস্ট করে লিখে যদি কোন কমেন্ট না করেন তাহলে নতুন পোস্ট লেখার আগ্রহ পাবো কি করে?
মোবাইলে Save করা Wi-Fi পাসওয়ার্ডগুলি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে দেখুন
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আজ আপনাদের সাথে অত্যান্ত আকর্ষণীয় একটি পোষ্ট শেয়ার করতে যাচ্ছি। পোস্টটি হচ্ছে- কিভাবে ৩০ সেকেন্ডে আপনার ফোনে সেভ করা Wi-Fi পাসওয়ার্ডগুলি দেখবেন? (বিঃ দ্রঃ পোষ্টটি আমাদের ব্লগের একজন Gust Author লিখেছিলেন, কিন্তু কেন জানি তিনিই আবার ডিলিট করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে Google User Content থেকে পুনঃরুদ্ধার করে আমি সবার উপকার্থে পোষ্টটি করেছি)।
আমার প্রাইভেট টিউশনে মাস্টারের ওয়াই-ফাই ছিল। কিন্তু প্রত্যেকের ফোনে কেবল মাত্র এক বারই পাসওয়ার্ড দেওয়া হত (মাস্টারের কিপটামির কারণে)। একবার ভুলে আমার পাসওয়ার্ড টি Forget হয়ে গিয়েছিল। তখন আমি অনেক ঘাটাঘাটি করে এই পদ্ধতি টি খুজে পাই।
আমার প্রাইভেট টিউশনে মাস্টারের ওয়াই-ফাই ছিল। কিন্তু প্রত্যেকের ফোনে কেবল মাত্র এক বারই পাসওয়ার্ড দেওয়া হত (মাস্টারের কিপটামির কারণে)। একবার ভুলে আমার পাসওয়ার্ড টি Forget হয়ে গিয়েছিল। তখন আমি অনেক ঘাটাঘাটি করে এই পদ্ধতি টি খুজে পাই।
আমি জানি আমার মত আপনাদেরও অনেক সময় এমন পরিস্থিতিতে পরতে হয়। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের উদ্দেশ্যে আমাদের ফোনে কিছুক্ষণের জন্য ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড দেওয়া হলেও কাজ শেষে মালিকের কথায় বাধ্য হয়ে পাসওয়ার্ডটা Forget করতে হয়। তখন আমাদের মনে হয়- ইশ!! যদি পাসওয়ার্ড টা জানতে পারতাম তাহলে কত ভাল হত!! যখন খুশি ওয়াই-ফাই দিয়ে ফ্রিতে নেট ব্যবহার করতে পারতাম।
আমার পোষ্টটি যদি আপনারা মন দিয়ে পড়েন তাহলে খুব সহজেই আপনাদের ফোনে সেভ করা ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড গুলি জানতে পারবেন, তা সে পাসওয়ার্ডটি যত অল্প সময়ের জন্যই দেয়া হোক না কেন। নোটঃএই কাজটি করার জন্য আপনার ফোনটিতে অবশ্যই রুট অ্যাকসেস থাকতে হবে। রুট অ্যাকসেস না থাকলে কোনভাবেই এটা সম্ভব হবে না। আপনার মোবাইল যদি রুট করা না থাকে তাহলে এই লিংক থেকে রুট করে নিতে পারেন।
আমার পোষ্টটি যদি আপনারা মন দিয়ে পড়েন তাহলে খুব সহজেই আপনাদের ফোনে সেভ করা ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড গুলি জানতে পারবেন, তা সে পাসওয়ার্ডটি যত অল্প সময়ের জন্যই দেয়া হোক না কেন। নোটঃএই কাজটি করার জন্য আপনার ফোনটিতে অবশ্যই রুট অ্যাকসেস থাকতে হবে। রুট অ্যাকসেস না থাকলে কোনভাবেই এটা সম্ভব হবে না। আপনার মোবাইল যদি রুট করা না থাকে তাহলে এই লিংক থেকে রুট করে নিতে পারেন।
কিভাবে দেখবেনঃ
- প্রথমে আপনার ফোনটি রুট করে নিন
- তারপর আপনার Android ফোনে ES File explorer ডাউনলোড করুন। (গুগল প্লে স্টোরে Es File Explorer লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন)
- অ্যাপটা খুলে সেখান থেকে ম্যানু ওপেন করে root explorar অপশন On করে দিন। তারপর নিচের চিত্রটি ফলো করুন।
- তারপর data ফোল্ডার থেকে misc খুলুন এবং শেষে wifi নামক ফোল্ডারটি খুললেই wpa_supplicant.config ফাইলটি পেয়ে যাবেন। নিচের চিত্রে দেখুন -
- এই ফাইলটিতেই ওয়াই-ফাই এর সমস্ত পাসওয়ার্ডগুলি লেখা থাকে। এবার ফাইলটি কোন টেক্সট এডিটর এর সাহায্যে ওপেন করলেই আপনারা wifi এর নামসহ পাসওয়ার্ড গুলি পরপর পেয়ে যাবেন। Thats all.
টিউনটি অনেক কষ্টে লিখেছি, পড়ে ভাল লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনারা সাথে থাকলে আরো অনেক নতুন নতুন টিউন লিখতে আগ্রহ পাবো। উল্লেখ্য যে, আমি তার লিখাটি হুবহু ব্লগে পুনরায় পোষ্ট করে দিলাম।
Android মোবাইলের ফন্ট পরিবর্তন করুন (রুট এবং আনরুট)
কিছু ভাল ব্রান্ডের এন্ড্রয়েড মোবাইলে যদিও ফন্ট পরিবর্তন করা যায় কিন্তু বেশীরভাগ কম দামি এন্ড্রয়েড মোবাইল গুলিতে ডিফল্ট ফন্ট পরিবর্তন করার কোন অপশন থাকে না। কাজেই দেখা যায় এক রকমের ফন্ট দেখতে দেখতে একসময় বিরক্ত লেগে যায়। তাছাড়াও বেশ কিছু মোবাইলে MS Word এর ফাইল অপেন করলে বাংলা ফন্টগুলি দেখা যায় না। আমি আজকের পোষ্টটিতে দেখাবো কিভাবে এন্ড্রয়েড এর ডিফল্ট ফন্ট পরিবর্তন করবেন এবং পাশাপাশি বিভিন্ন কাষ্টম ফন্ট (বাংলা ফন্ট) ইনস্টল করতে হয়।
আমি আজকের পোষ্টটি দুটি ধাপে দেখাবো। ১ম টির সাহয্যে আপনি আপনার এন্ড্রয়েড মোবাইলের ডিফল্ট ফন্ট পরিবর্তন করে মোবাইলের সুন্দর্য বৃদ্ধি করতে পারবেন এবং ২য় টির মাধ্যমে বাংলা ফন্ট দেখার সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।
কিছু কথাঃ পোষ্টটি শুরু করার আগে আমাদের সম্পর্কে দুটি কথা বলে নিচ্ছি। আসলে আমরা যখন এই ব্লগটি চালু করি তখন এন্ড্রয়েড নিয়ে লেখা-লেখি করার আমাদের কোন উদ্দেশ্যই ছিল না। আমাদের ব্লগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্লগ Development নিয়ে লিখা। কিন্তু পরবর্তীতে বেশ কিছু পাঠকের অনুরোধে এবং এন্ড্রয়েড এর জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে আমরা এন্ড্রয়েড নিয়ে লেখা শুরু করি। বর্তমানে আমাদের ব্লগের অন্য স্টাফরা কাজে ব্যস্ত থাকাতে আমার একার পক্ষে দুটি বিষয় নিয়ে লিখা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য এন্ড্রয়েড নিয়ে নিয়মিত পোষ্ট করতে পারছি না। তবে ভবিষ্যতে আমরা এন্ড্রয়েড নিয়ে আরও অনেক বেশী পোষ্ট করবো, ইশাআল্লাহ্। আমাদের ব্লগের এন্ড্রয়েড সেকশনে Guest Blogger হিসেবে কেউ যদি কাজ করতে আগ্রহী থাকেন তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা একজন এন্ড্রয়েড Expert-কে আমাদের সাইটে Guest ব্লগার হিসেবে নিতে চাচ্ছি। আমাদের সাথে ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারেন- support@prozokti.com
কিভাবে ফন্ট পরিবর্তন করবেনঃ যারা Galaxy S3, S4 এবং Note ব্যবহার করছেন তারা রুট না করেও ডিফল্ট ফন্ট পরিবর্তন করতে পারবেন। আর যারা অন্য কোম্পানির ফোন ব্যবহার করছেন তাদের অবশ্যই রুট করে নিতে হবে। আপনার ফোন রুট করা না থাকলে এই পোষ্টটি থেকে সহজে রুট করে নিতে পারবেন।
- প্রথমে এখান থেকে iFont এ্যাপটি ডাউনলোড করে নিন।
- এ্যাপটি আপনার মোবাইলে ইন্টল করে চালু করলে নিচের চিত্রের মত দেখতে পাবেন।
- উপরের চিত্র হতে আপনার পছন্দের যে ফন্ট ইন্টল করতে চান সেটিতে ক্লিক করলে নিচের চিত্রের মত শো করবে।
- এখন ডাউনলোড বাটনটিতে ক্লিক করলেই ফন্টটি ডাউনলোড হবে। এ জন্য অবশ্যই ডাটা কানেকশন লাগবে।
- ডাউনলোড হওয়ার পর Set বাটনটিতে ক্লিক করলেই মোবাইল Restart করার কথা বলবে। নিচে দেখুন -
- এখানে Ok বাটনে ক্লিক করলেই আপনার মোবাইলটি রিস্টার্ট নেবে। তারপর আপনার মোবাইলের ডিফল্ট ফন্ট পরিবর্তন হয়ে যাবে। এতটুকুই যথেষ্ট।
কাষ্টম ফন্ট ইন্টলঃ আপনার পছন্দের ব্যক্তিগত ফন্ট যদি ইনস্টল করতে চান তাহলে নিচের ট্রিকস গুলি ফলো করুন।
- প্রথমে .ttf ফাইল অর্থাৎ ফন্ট ডাউনলোড করে নিতে হবে। আপনি ইচ্ছে করলে এখান থেকে এন্ড্রয়েড এর সর্বশেষ Lollipop 5.0 ভার্সনের ফন্ট ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
- তারপর ডাউনলোড করা ফন্ট গুলি কপি করে আপনার মোবাইলের SD Card এর iFont ফোল্ডারের ভীতরের Custom ফোল্ডারে পেষ্ট করতে হবে।
- এখন আবার iFont এ্যাপটি চালু করে My ট্যাবে ক্লিক করুন। নিচে দেখুন -
- তারপর পছন্দের ফন্টটি সিলেক্ট করে আগের মত Set বাটনে ক্লিক করে মোবাইলে Restart করলেই হয়ে যাবে।
বাংলা ফন্ট ইনস্টলঃ এই পদ্ধতীতে আপনি একসাথে অনেকগুলি ফন্ট আপনার মোবাইলে ইনস্টল করতে পারবেন। তবে এই জন্য অবশ্যই আপনার মোবাইলটি রুট করা থাকতে হবে।
- প্রথমে এখান থেকে ES File Explorer টি ডাউনলোড করে নিন।
- তারপর ES File Explorer টি চালু করে Device এ যান। Device এ যাওয়ার জন্য নিচের চিত্রের তীর চিহ্ন দিয়ে ইন্ডিকেট করা অংশে ক্লিক করুন।
- এখন Device হতে System > Fonts ফোল্ডারে যান।
- তারপর Flying Sidebar অপেন করে Root Explorer ON করুন। নিচের চিত্রে দেখুন -
- এরপর আপনার কাংখিত ফন্টগুলি কপি করে এই Fonts ফোল্ডারে পেষ্ট করে মোবাইল রিস্টার্ট করুন। That's all.
ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখুন
এন্ড্রয়েড ফোন রুট করার সবচেয়ে সহজ এবং ১০০% নিরাপদ উপায়!
এক সময় এন্ড্রয়েড ফোন রুট করা অনেক কঠিন একটা ব্যাপার ছিল কিন্তু এখন রুট করাটা অনেক সহজতর ব্যাপার হয়েগেছে। আমি আপনাদেরকে ০৩ টি উপায়ে রুট করার কৌশল দেখাবো। তিনটির মধ্যে একটি কম্পিউটারের মাধ্যমে এবং বাকী দুটি পদ্ধতী দেখাবো কিভাবে কম্পিউটার ছাড়াও আপনার নিজস্ব মোবাইলের মাধ্যমে রুট করতে হয়। এই তিনটি পদ্ধতীই সহজ এবং বর্তমান সময়ের জন্য খুবই নিরাপদ। যার যার চাহিদামত কম্পিউটার অথবা মোবাইলের মাধ্যমে আপনার প্রিয় এন্ড্রয়েড মোবাইলটি-কে রুট করে নিতে পারবেন। যাদের কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ নেই তারা চাইবে মোবাইলের সাহায্যে রুট করে নিতে। আর যাদের কম্পিউটার আছে তারা ইচ্ছা করলে তিনটির মধ্যে যে কোন একটি উপায়ে রুট করে নিতে পারবেন। সবার চাহিদার কথা ভেবে আমি আপনাদের জন্য এই পদ্ধতিগুলো একসাথে শেয়ার করে দিলাম। তবে আমার পরামর্শ হচ্ছে যাদের কম্পিউটার আছে তারা অবশ্যই কম্পিউটার এর মাধ্যমে রুট করে নিবেন। কারণ কম্পিউটার এর মাধ্যমে রুট করা সবচেয়ে সহজ এবং নিরাপদ।
রুট কিঃ শব্দটি এতোই প্রচলিত হয়ে গেছে যে, রুট ইউজার বলার বদলে সবাই এটিকে সরাসরি রুট বলে থাকে। সবচেয়ে সহজ শব্দে বলা যায়, রুট হচ্ছে এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর বা প্রশাসক। যদিও এর বাংলা অর্থ গাছের শিকড়, লিনাক্সের জগতে রুট বলতে সেই পারমিশন বা অনুমতিকে বোঝায়, যা ব্যবহারকারীকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করে তোলে। রুট হচ্ছে একটি এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন পারমিশন বা অনুমতি। এই অনুমতি থাকলে ব্যবহারকারী সেই ডিভাইসে যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহারকারী এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর প্রিভিলেজ ছাড়া সিস্টেম ফাইলগুলো নিয়ে কাজ করতে পারেন না। লিনাক্সেও তেমনি রুট পারমিশন প্রাপ্ত ইউজার ছাড়া সিস্টেম এ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের কাজগুলো করা যায় না। যিনি লিনাক্স-চালিত কম্পিউটার বা সার্ভারে যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন অথবা যার সব কিছু করার অনুমতি রয়েছে, তাকেই রুট ইউজার বলা হয়। নিচে আমি বর্ণনা করবো কিভাবে রুট করতে হয়।
×আপডেটঃ এই পোষ্টটি সর্বশেষ ০৯/০২/২০১৮ তারিখে আপডেট করা হয়েছে।
প্রথম পদ্ধতী - কম্পিউটারের মাধ্যমে রুটঃ
আমি আগেই বলে দিয়েছি যাদের কম্পিউটার আছে তারা অবশ্যয় এই পদ্ধতিতে রুট করে নেবেন। কারণ এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ অর্থাৎ মোবাইল ব্রিক করার কোন প্রকার ঝুকি নেই। এ পদ্ধতিতে এন্ড্রয়েড এর যে কোন ভার্সন-কে রুট করতে পারবেন। সর্বশেষ Android Oreo-8.00 ভার্সন পর্যন্ত এটি অনায়াসে রুট করতে সক্ষম। মোবাইল রুট করার ক্ষেত্রে এ সফটওয়ারটি কোন কোন ধরনের ডিভাইস সাপোর্ট করছে সে বিষয়ে তাদের অফিসিয়াল সাইট থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাদের তালিকায় আপনার ডিভাইসটি রয়েছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন। তাহলে দেরী না করে কাজের কথায় আসি।- Kingo Android Root সফটওয়ারটি আপনার কম্পিউটারে ডাউনলোড করে ইনস্টল করে নিন।
- ইনস্টল করার পর সফটওয়ারটি রান করলে নিচের চিত্রের মত শো করবে।
- এখন আপনাকে ছোট একটা কাজ করতে হবে। মোবাইলের Developer Options অন করে Enable USB Debugging এ ঠিক চিহ্ন দিতে হবে। এটি করার জন্য আপনার মোবাইলে Settings থেকে Developer Options যেতে হবে। নিচের চিত্রে দেখুন-
- তারপর USB Cable এর মাধ্যমে আপনার মোবাইলটি কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করুন।
- কানেক্ট হওয়ার পর এটি অটোমেটিক্যালি ড্রাইভার ডাউলোড করে ইনস্টল করে নেবে। এর জন্য অবশ্যয় আপনার কম্পিউটারটি ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্টেট থাকতে হবে।
- ড্রাইভার ইনস্টল হওয়ার পর মোবাইলটি কম্পিউটার থেকে ডিসকানেক্ট করে আবার কানেক্ট করলে নিচের চিত্রের মত দেখতে পাবেন।
- এখানে শুধু ROOT এ ক্লিক করলেই আপনার মোবাইলটি রুট হতে শুরু করবে। এর মধ্যে আপনাকে কিছুই করতে হবে না। নিচের চিত্রের মত রুট হওয়ার অপশন শো করতে থাকবে। (রুট হওয়ার জন্য ২-৩ মিনিট সময় নিতে পারে)
- রুট কমপ্লিট হওয়ার পর নিচের চিত্রের মত সাকসেছ ম্যাসেজ শো করলে Finish Button এ ক্লিক করতে হবে।
- তারপর আপনার মোবাইলটি রিস্টার্ট করুন। That's All.
- নোটঃ রুট করতে কোন প্রকার সমস্যা হলে Kingo Root এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হতে রুট করার টিউটোরিয়াল দেখে নিতে পারেন। তারা তাদের অফিসিয়াল সাইটে সকল ধরনের ডিভাইস রুট করার টিউটোরিয়াল শেয়ার করেছে।
দ্বিতীয় পদ্ধতী - মোবাইলের মাধ্যমে রুটঃ
দীর্ঘ দিন থেকে Kingo Root শুধুমাত্র কম্পিউটার এর মাধ্যমে এন্ড্রয়েড ফোন Root করার সুবিধা দিয়ে আসছিল। বিগত এক-দুই বছর যাবৎ তারা Kingo Root এর Apk ভার্সন বের করেছে। ফলে এখন থেকে যাদের হাতে নাগালে কম্পিউটার নেই তারাও অত্যান্ত কার্যকরী এই App টি দিয়ে সহজে এন্ড্রয়েড মোবাইলটি রুট করে নিতে পারবেন।
- প্রথমে এখান থেকে Kingo Root এ্যাপটি ডাউনলোড করুন।
- তারপর এ্যাপটি Install করে Launch করলে নিচের চিত্রটি দেখতে পাবেন। (মোবাইলের ইন্টারনেট কানেশন অবশ্যই একটিভ করে রাখবেন)
- এখন উপরের চিত্রের নীল কালারের One Click Root অপশনে ক্লিক করলে নিচের চিত্রের ন্যায় রুট হওয়া শুরু করবে।
- এই অংশে আপনাকে কিছুই করতে হবে না। শুধুমাত্র রুট না হওয়া পর্যন্ত কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। রুট সম্পন্ন হওয়ার পর নিচের চিত্রেরমত Success Message শো করবে।
- এতটুকু করলেই দ্বিতীয় পদ্ধতীতে আপনার মোবাইল রুট হয়ে যাবে।
তৃতীয় পদ্ধতী - মোবাইলের মাধ্যমে রুটঃ
এ পদ্ধতীতে দেখাবো কিভাবে Kingroot এ্যাপ দিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে খুব সহজে আপনার এন্ড্রয়েড ফোন রুট করবেন। নামের দিক থেকে Kingo Root এবং Kingroot দেখতে প্রায় এক রকম হলেও একটু মনোযোগ সহকারে দেখলে নামের পার্থক্য বুঝা যায়। এন্ড্রয়েড ফোন রুট করার জন্য বর্তমান সময়ে এটি খুবই সহজ এবং জনপ্রিয় একটি এ্যাপ। এটি শুরুর দিকে শুধুমাত্র Chines Version ছিল কিন্তু বিগত এক বছর থেকে English Version বের হয়েছে। এটি দিয়ে মাত্র এক ক্লিক করেই আপনার ফোনটি রুট করতে পারবেন। এটি দিয়েও এন্ড্রয়েড এর প্রায় সকল আপডেট ভার্সন পর্যন্ত রুট করা যায়। এই এ্যাপস এর ডেভেলপারদের ভাষ্য অনুসারে বর্তমানে প্রায় এক লক্ষ এর বেশী ধরনের ডিভাইস রুট করা যায়।
- প্রথমে এখান থেকে এ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।
- ইনস্টল হওয়ার পর এ্যাপটি অপেন করলে কিছুক্ষনের মধ্যে আপনার মোবাইলটি স্ক্যান হবে এবং নিচের চিত্রটি শো করবে। রুট করার জন্য অবশ্যই আপনার মোবাইলের ইন্টারনেট একটিভ করে রাখবেন।
- এখানের নীল রংয়ের Try it বাটনে ক্লিক করলে ফোনের রুট Status Verify শুরু করবে।
- উপরের চিত্রে দেখুন ফোনের Root Status Verify করছে।
- উপরের চিত্রের নীল কালারের Start Root বাটনে ক্লিক করলে আপনার মোবাইল রুট হওয়া শুরু করবে।
- উপরের চিত্রটিতে ১০০% না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এটি কমপ্লিট হতে ২/৩ মিনিট সময় নিতে পারে। ১০০% হয়ে গেলে নিচের চিত্রেরমত Success ম্যাসেজ শো করবে।
- এখন আপনার মোবাইলটি Restart করুন। That's all.
- এরপর শুধু KingUser টি রেখে বাকী সব Extra এ্যাপ Uninstall করতে পারেন।
- নোটঃ রুট করতে কোন প্রকার সমস্যা হলে KingRoot এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হতে রুট করার টিউটোরিয়াল দেখে নিতে পারেন।
সাহায্য জিজ্ঞাসাঃ এখন থেকে আপনার মোবাইলটি রুটেড ডিভাইস। রিস্টার্ট হওয়া পর মোবাইলে SuperSU নামের একটি এ্যাপ দেখতে পাবেন। এটি হচ্ছে আপনার রুট এ্যাপ/ইউজার। আশাকরি সবাই বুঝতে পারবেন। তারপরও যদি কারও বুঝতে অসুবিধা হয় কিংবা কোন প্রকার সমস্যা হয় তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।
ব্লগস্পট ব্লগে Google AdSense বিজ্ঞাপনের Popup Box যুক্ত করুন
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছ। আসলে পরীক্ষার জন্য অনেক দিন যাবৎ ব্লগে লিখা হয়নি। হয়ত আরও কিছু দিন আমাকে ব্লগে লেখা-লেখি থেকে বিরত থাকতে হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নিয়মিতভাবে ব্লগে লিখব।
আজ আমি আরেকটি গুরত্বপূর্ণ ব্লগার Widget আপনাদের সাথে শেয়ার করব। যারা ব্লগে Google AdSense সহ বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন, তারা এই Popup Box টি ব্যবহার করে অনেক লাভবান হতে পারবেন। কারণ কেউ যখন আপনার ব্লগে ভিজিট করবে তখন এই Popup Box টি ব্লগের মধ্যখানে শো করবে, যা সবার দৃষ্টিগোচর হবে। ফলে দেখা যাবে আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন ক্লিক বেড়ে যাবে। আর আপনি নিশ্চয় জানেন যে, বিজ্ঞাপন ক্লিক বেড়ে যাওয়া মানেই হচ্ছে আপনার ব্লগের আয় বাড়া।
ইতিপূর্বে আমরা আপনাদের সাথে Scrolling Facebook Popup Like Box Widget সংক্রান্ত একটি পোষ্ট শেয়ার করেছিলাম। ইচ্ছে করলে আপনি ঐ উইজেটটি দেখে আসতে পারেন।
অনলাইনে টাকা উপার্জনের যত উপায় আছে তার মধ্যে Google Adsense হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। Google Adsense হতে নিঃসন্দেহে দীর্ঘ দিন যাবৎ অনলাইন হতে ভালমানের টাকা উপার্জন করতে পারবেন। শুধুমাত্র আপনার ইচ্ছা এবং কিছু পরিশ্রম থাকতে হবে। আসলে আমাদের আজকের বিষয় Google Adsense হতে টাকা আয় করা নিয়ে নয়। আমি আজ দেখাবে কিভাবে ব্লগে Google AdSense বিজ্ঞাপনের Popup Box যুক্ত করবেন। এটি Widget ফরমেটে হওয়া ব্লগে যুক্ত করার জন্য কোন প্রকার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না। নিচের ছোট ট্রিকসটি ফলো করলেই এটি আপনার ব্লগে খুব সহজে যুক্ত হয়ে যাবে। লাইভ ডেমো দেখুন - Live Demo
অনলাইনে টাকা উপার্জনের যত উপায় আছে তার মধ্যে Google Adsense হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। Google Adsense হতে নিঃসন্দেহে দীর্ঘ দিন যাবৎ অনলাইন হতে ভালমানের টাকা উপার্জন করতে পারবেন। শুধুমাত্র আপনার ইচ্ছা এবং কিছু পরিশ্রম থাকতে হবে। আসলে আমাদের আজকের বিষয় Google Adsense হতে টাকা আয় করা নিয়ে নয়। আমি আজ দেখাবে কিভাবে ব্লগে Google AdSense বিজ্ঞাপনের Popup Box যুক্ত করবেন। এটি Widget ফরমেটে হওয়া ব্লগে যুক্ত করার জন্য কোন প্রকার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না। নিচের ছোট ট্রিকসটি ফলো করলেই এটি আপনার ব্লগে খুব সহজে যুক্ত হয়ে যাবে। লাইভ ডেমো দেখুন - Live Demo
কিভাবে যুক্ত করবেনঃ
- প্রথমে আপনার ব্লগে লগইন করুন।
- ব্লগার ড্যাশবোর্ড হতে Layout এ ক্লিক করুন।
- এখন ডান পাশের লেআউট হতে Add Gadget এ ক্লিক করুন। নিচের চিত্রে দেখুন -
- সবশেষে Gadget টি Save করুন। That's all.
পরিবর্তনঃ
- উপরের লাল চিহ্নিত xxxxxxxxxxxxx এর জায়গায় আপনার AdSense বিজ্ঞাপনের কোড বসাতে হবে।
- বিজ্ঞাপনের চার পাশে Border দিতে চাইলে উপরের নীল কালারের border:0px solid #000 এর জায়গায় border:1px solid #000 দেন।
- পিংক কালারের Width ও Height এর সাথে মিল রেখে আপনার AdSense বিজ্ঞাপন কোড নেবেন।
Google AdSense কি এবং কিভাবে কাজ করে?
Google AdSense কি এ বিষয় নিয়ে নতুন করে লিখার কিছু নেই, তবে কিভাবে কাজ করে এ বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার নয়। এ পোষ্টটি লিখার আগে আমি বেশ কয়েকবার চিন্তা করেছিলাম যে, পোষ্টটি লিখব কি না? কারণ Google AdSense কি এ বিষয় সবাই জানে। তারপরও আমি প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করলাম, কারণ Google AdSense নিয়ে কয়েকটি Series পোষ্ট লিখব। Google AdSense কি, কিভাবে কাজ করে, কিভাবে অনুমোদন করতে হয়, কিভাবে বেশী আয় করা যায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পোষ্ট করব। আশাকরি আমাদের সাথে যারা থাকবেন তারা Google AdSense বিষয়ে সকল নাড়ী-ভূড়ী নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
অন-লাইন হতে টাকা আয় করার যত প্রন্থা আছে তার মধ্যে Google AdSense নিঃসন্দেহে সাবার শীর্ষে অবস্থান করছে। সব ধরনের ব্লগারই তাদের ব্লগে Google AdSense বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে চায়। কারণ AdSense এর আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের সাইজ এবং ডিজাইনের কারণে এটিকে সবাই পছন্দ করে। তাছাড়া Google AdSense হতে অর্জিত টাকা গুগল খুব বিশ্বস্ততার সাথে পরিশোধ করে। এ সব কারনে Google AdSense সবার শীর্ষে অবস্থান করছে।
সকল পোষ্ট দেখুন
- Google AdSense কিঃ সবাই নিশ্চয় জাননে যে, Google AdSense হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা যেটি গুগল নিজে পরিচালনা করছে। গুগল বিভিন্ন কোম্পানির কাছে অর্থের বিনিময়ে তাদের আওতাধীন যত ওয়েবসাইট আছে যেসগুলিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আয় করে। গুগল AdSense বিজ্ঞাপন থেকে যত টাকা আয় করে তার ৬৮ ভাগ টাকাই দিয়ে থাকে পাবলিশারদের এবং বাকী ৩২ ভাগ টাকা নিজেরা ভোগ করে। গুগল AdSense সাধারণত বিভিন্ন ধরনের Text এবং Image আকারে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে। এ সব বিজ্ঞাপনে Per-Click এবং Per-Impression হিসেব করে পাবলিশারদের টাকা প্রদান করে থাকে। গুগল যত টাকা উপার্জন করে তার প্রায় ২৭ ভাগ আসে Google AdSense থেকে।
- কিভাবে Google AdSense কাজ করেঃ Google AdSense এর একটি বিশালাকারে শাখা এবং ডেভেলপার টিম রয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত এটিকে দিনে পর দিন ভাল অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। গুগল সাধারণত প্রথমে একটি সাইটের যাবতীয় তথ্য এবং Cookies সংগ্রহ করে। তারপর বিশেষ পোগ্রামিং এবং JavaScript এর মাধ্যমে কনটেন্ট এর উপর ডিপেন্ড করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে। এ সব বিজ্ঞাপন পাবলিশারদের দুটি উপায়ে আয় করার সুযোগ দেয়। কিছু ওয়েবসাইটের জন্য কেবল যারা ঐ সাইটটি অপেন করে বিজ্ঞাপন দেখে এবং কিছু ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মাধ্যমে রেট ভিত্তিক টাকা প্রদান করে থাকে। তবে প্রত্যেকটি ব্লগ/ওয়েবসাইটের র্যাংকিং এর উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা বিজ্ঞাপন দেখার এবং ক্লিক রেটও রয়েছে। তাছাড়া বিজ্ঞাপনের সাইজ ও ধরণ অনুযায়ীও বিজ্ঞাপনের ক্লিক রেট ভিন্ন হয়ে থাকে।
- AdSense বিজ্ঞাপন ভিন্ন হয় কেনঃ আমি আগেই বলেছি গুগল AdSense এর বিজ্ঞাপন বিশেষ কিছু পোগ্রামিং এর মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়, যাতেকরে এটি যে কোন সাইটকেই দেখতে আকর্ষীয় করে তুলে। তাছাড়া এটি কোন ওয়েবসাইটের লোড টাইমের উপরও কোন প্রভাব ফেলবে না। যখন কোন ভিজিটর ব্লগের কোন একটি পোষ্ট ভিজিট করে, তখন সাথে সাথে গুগল AdSense Scripts সমস্ত পোষ্টের কনটেন্ট স্ক্যান করে নেয় এবং কনটেন্টের সাথে মিল রেখে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। অধীকন্তু কোন্ দেশ হতে সাইট ভিজিট করা হচ্ছে সেটিও জেনে নিয়ে ঐ দেশ এবং এলাকা ভিত্তিকও বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। যার দরুন দেখা যায় বাংলাদেশ থেকে ভিজিট করার পর গুগল AdSense বাংলাদেশের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন শো করছে। আপনি যখন কোন সাইট ভারত থেকে ভিজিটর করবেন তখন গুগল AdSense ভারতের বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাবে।
শেষ কথাঃ উপরের বিশেষ গুনের কারনে গুগল AdSense বিজ্ঞাপন দাতা এবং পাবলিশারদের মন জয় করে নিয়ে সাবার শীর্ষে অবস্থান করছে। কারণ এলাকা ভিত্তিক বিজ্ঞাপন শো করার কারনে বিজ্ঞাপন দাতাদের বিশেষ সুবিধা হয়। অন্যদিকে যারা ব্লগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেন তাদের সাইটে কোন প্রকার লোড টাইমের প্রভাব না করার কারনে তারাও পছন্দ করে। তাছাড়াও গুগল AdSense হতে উপার্জিত টাকা বিশ্বস্তাতার সাথে পরিশোধ করার কারনে সকল ধরনের বিজ্ঞাপনী সংস্থার শীর্ষে রয়েছে। আপনিও ইচ্ছে করলে খুবই সহজে গুগল AdSense থেকে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।
Google AdSense এ Apply করার আগে যে ১০ টি কাজ আবশ্যক!
গত পোষ্টে আমরা শেয়ার করেছিলাম Google AdSense কি এবং কিভাবে কাজ করে? Google AdSense নিয়ে কয়েকটি Series পোষ্ট করার কথা ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের সাথে আরেকটি পোষ্ট শেয়ার করছি। সবগুলি Series পোষ্টের মধ্যখানে ড্রপডাউন ম্যানুর মাধ্যমে লিংক করে দেয়া হবে। আপনি ইচ্ছে করলেই খুবই সহজে সবগুলি পোষ্ট পড়তে পারবেন।
আমরা জানি যে, Google AdSense অনলাইন ভিত্তিক সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনি সংস্থা। তাদের বিজ্ঞাপনের উচ্চ মূল্যের Click Rate এবং আরও বিশেষ সুবিধা জন্য সব ধরনের ব্লগার এবং ওয়েবমাষ্টাররা তাদের ব্লগে Google AdSense ব্যবহার করে অনলাইন হতে আয় করতে চায়। তবে অধিকাংশ ব্লগাররা তাদের অজ্ঞতার কারনে Google AdSense অনুমোদন করতে ব্যর্থ হয়। অথচ সামান্য কিছু টিপস অনুসরণ এবং ধৈর্য ধারণ করে চেষ্টা করলে খুব সহজেই অল্প দিনে Google AdSense অনুমোদন করা যায়। নিচে আপনাদের সাথে শেয়ার করব Google AdSense এ Apply করার আগে যে কাজগুলি অবশ্যই করতে হবে।
সকল পোষ্ট দেখুন
- কাষ্টম ডোমেইনঃ Google AdSense অনুমোদন পাওয়ার জন্য Domain অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অধিকাংশ নতুন ব্লগার তাদের ব্লগে Sub-Domain (Blogspot.com অথবা Wordpress.com) ব্যবহার করে Google AdSense এর জন্য আবেদন করেন। যার ফলে দেখা গুগল তাদের আবেদন সরাসরি নাকুচ করে দেয়। তবে এক সময় ছিল যখন Sub-Domain দিয়েও খুব সহজে AdSense অনুমোদন করা যেত, কিন্তু সম্প্রতি এ বিষয়টি খুব বেশী কঠিন হয়েগেছে। কাজেই বিষয়টি সহজ করার জন্য প্রথমে একটি ভালমানের Custom Domain কিনে নিতে হবে। তাছাড়াও Custom Domain ব্যবহার করলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনেও বিশেষ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
- Domain Age: Google AdSense অনুমোদন পাওয়ার জন্য ডোমেইনের বয়সও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। AdSense এর জন্য আবেদন করার আগে আপনার ডোমেইনের বয়স কমপক্ষে ২/৩ মাস হতে হবে। তবে ডোমেইনের বয়স ৬ মাস হওয়ার পর AdSense এর আবেদন করাটা সবচেয়ে ভাল। তাছাড়া এশিয়ার বেশ কিছু দেশ রয়েছে যেগুলিতে ৬ মাস না হওয়া পর্যন্ত ব্লগার দিয়ে AdSense জন্য আবেদন করার সুযোগই পাওয়া যায় না।
- ব্লগ Design এবং Loading Speed: আপনার ব্লগার টেমপ্লেটটি বা ওয়েবসাইটটি অবশ্যই User Friendly এবং দেখতে আকর্ষণীয় হতে হবে। পাঠকরা যাতে সহজে যে কোন ধরনের বা সাইজের ডিভাইস থেকে ব্লগের বিষয়বস্তু পড়তে পারে। ব্লগের Header, Post, Sidebar এবং Footer সবগুলি অংশে যাতে Google AdSense এর কোড বসানো যায়। তাছাড়া আপনার ব্লগটির Loading Speed অবশ্যই ভাল হতে হবে। তা না হলে Slow গতীর ব্লগে কোনভাবেই আশানুরূপ ভিজিটর পাবেন না।
- Search Engine Friendly: আপনার ব্লগের টেমপ্লেট এবং প্রত্যেকটি পোষ্ট সার্চ ইঞ্জিন Friendly হতে হবে। এটি যে কোন ব্লগকে দ্রুত Google AdSense অনুমোদন পেতে সাহায্য করবে। তাছাড়া Google AdSense এর Robot রয়েছে, যেটি আপনার ব্লগকে স্ক্যান করে নেবে। এ ক্ষেত্রে ব্লগের প্রত্যেকটি পোষ্ট সার্চ ইঞ্জিন Friendly না হলে AdSense অনুমোদন করবে না। তাহলে অবশ্যই আপনাকে SEO এর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
- পর্যাপ্ত Content: একটা কথা মনে রাখবেন সবকিছুর মূলেই হচ্ছে ব্লগের Content. আপনার ব্লগে যত ভালমানের Content থাকবে তত বেশী ভিজিটর পাবেন। কাজেই নিয়মিত ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করতে হবে। Google AdSense এ আবেদন করার পূর্বে আপনার ব্লগে কমপক্ষে ২০/২৫ টি ভালমানের ইউনিক পোষ্ট থাকতে হবে। ব্লগের প্রত্যেকটি Categories এ কমপক্ষে ৫ টি করে পোষ্ট হতে হবে।
- প্রতিটি Posts এর Limit: প্রত্যেক পোষ্টে অবশ্যই পরিমানমত লেখা থাকতে হবে। শুধু কোনরকম ২০/২৫ টি পোষ্ট করলেই আপনি Google AdSense পাওয়ার জন্য আশা করতে পারেন না। গুগল বট আপনাকে AdSense অনুমোদন দেয়ার আগে এটাও জেনে নেবে যে, প্রত্যেকটি পোষ্টে কি পরিমান লেখা রয়েছে। প্রতিটি পোষ্ট মিনিমাম ৫০০/৬০০ টি ভালমানের Words এর সমন্বয়ে হতে হবে।
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ Pages: ব্লগের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ Pages যেমন- About Us, Privacy Policy এবং Contact Us পেজ রাখা আবশ্যক। কয়েক বৎসর আগে Google AdSense Team একটি নিয়ম করেছিল যে, প্রত্যেকটি ব্লগের অবশ্যই Privacy Policy পেজ রাখতেই হবে। তারই নিয়মে অবশ্যই বাকি পেজগুলিও রাখাটা ভাল।
- নাম, বয়স এবং ইমেইলঃ আপনার নাম, বয়স এবং ইমেইল এড্রেস অবশ্যই Google Account এবং Contact Us পেজে ব্যবহৃতটির মাধ্যমে করবেন। এতেকরে Google AdSense রোবট সহজে আপনার নাম, বয়স এবং ইমেইল এড্রেস সম্পর্কে নিশ্চিত হবে পারবে। তাছাড়া Google AdSense এ আবেদন করার জন্য আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ বৎসর হতে হবে।
- সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটরঃ সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটর পেলে আপনার ব্লগের জন্য Google AdSense পাওয়া আরও সহজ হয়ে যায়। কারণ যে ব্লগে গুগল সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটর আসে সে ব্লগকে গুগল বেশী পছন্দ করে। কাজেই সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটর পাওয়ার জন্য ভালভাবে SEO অনুসরণ করতে হবে। আপনার ব্লগে যদি ভিজিটর কম থাকে তাহলে AdSense পাওয়ার আশা করতে পারেন না। Google AdSense পাওয়ার জন্য আপনার ব্লগে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০/৩০০ ইউনিক ভিজিটর থাকতে হবে।
- অন্য বিজ্ঞাপন না দেওয়াঃ আপনার ব্লগে যদি অন্য কোন ধরনের PPC বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন তাহলে Google AdSense এ আবেদন করার পূর্বে তা সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় গুগল আপনার ব্লগে AdSense অনুমোদন করবে না। কারণ Google AdSense তাদের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অন্য কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাতে পছন্দ করে না।
সর্বশেষঃ উপরের সবগুলি ধাপ ভালভাবে অনুসরণ করলে নিঃসন্দেহে যে কোন ব্লগার তাদের ব্লগে প্রথমবার Apply করেই Google AdSense অনুমোদন করতে পারবে। সুতরাং আপনি যদি আপনার প্রিয় ব্লগে Google AdSense ব্যবহার করে অনলাইন হতে আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই আগে ব্লগটিকে ভালভাবে ঠিকঠাক করে নিতে হবে। কেবল তবেই Google AdSense পাওয়া সোনার হরিনের মত না হয়ে একদম সহজ মনে হবে।
AdSense অনুমোদন না হওয়ার প্রধান ১০ টি কারন!
Google Adsense সর্বপ্রথম ২০০৩ সালের জুন মাসে অফিসিয়ালভাবে চালু করার পর হতে প্রথম ৩-৪ বৎসর যদিও অনুমোদন করা খুব সহজ একটা ব্যাপার ছিল কিন্তু এর পর থেকে যত দিন যাচ্ছে বিষয়টি তত কঠিন হয়ে দাড়াচ্ছে। শুরুর দিকে যে কেউ যেন-তেন কপি করা একটি ব্লগ দিয়েও অনুমোদন করে নিতে পারলেও বর্তমানে একটি ভালমানের ব্লগেও বিভিন্ন নিয়ম সঠিকভাবে না মানার কারনে অনুমোদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে যারা পূর্ণাঙ্গভাবে Google Adsense এর সকল নিয়ম মেনে ব্লগিং করছে তারা খুব সহজে অনুমোদন করতে সক্ষম হচ্ছে।
Adsense দিনের পর দিন তাদের পলিসি পরিবর্তন করার সাথে সাথে বিষয়টি আরও কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। যদিও শুরুর দিকে অনেকে একটি নরমাল ব্লগ দিয়ে Adsense অনুমোদন করতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু পরবর্তীতে যথাযথ নিয়ম না মেনে ব্যবহার করার কারনে অনেকের একাউন্ট ব্যান হয়েছে। আর একবার Adsense একাউন্ট ব্যান হলে সেটি আর কখন ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না।
বর্তমান সময়ের অনেক ভালমানের ব্লগার আছেন যারা বার বার Google Adsense এর জন্য আবেদন করে অনুমোদন করতে না পেরে হতাশ হচ্ছেন। কিছু লোক চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে আবার অনেকে কিছুতেই ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারছেন না। যারা বার বার আবেদন করেও Adsense পাচ্ছে না তাদের জন্য ১০ টি প্রধান কারণ শেয়ার করতে যাচ্ছি। এ গুলি নিশ্চয় আপনার ব্লগের ভূলগুলিকে সংশোধন করতে সাহায্য করবে।
০১. ব্লগের বয়স কম হওয়াঃ
Google AdSense এ আবেদন করার পূর্বে আপনার ব্লগের/ওয়েবসাইটের বয়স কমপক্ষে ৬ মাস হতে হবে। বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশের কোন জায়গা থেকে আবেদন করার জন্য ব্লগের বয়স ৬ মাস পূর্ণ না হওয়া অবধি আবেদন করাই সম্ভব হয় না। কাজেই ব্লগের বয়স ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পরে Adsense এর জন্য আবেদন করা উচিত।
০২. অপর্যাপ্ত কনটেন্টঃ
একটি ব্লগ পরিচালনা করার জন্য কনটেন্ট হচ্ছে তার প্রাণ। আপনার ব্লগে যত ভালমানের Content থাকবে তত বেশী ভিজিটর পাবেন। Google AdSense এ আবেদন করার পূর্বে আপনার ব্লগে কমপক্ষে ২০/২৫ টি ভালমানের ইউনিক পোষ্ট থাকতে হবে। ব্লগের প্রত্যেকটি Categories এ কমপক্ষে ৫ টি করে পোষ্ট হতে হবে। কারণ Adsense কর্তৃপক্ষ আপনার ব্লগটিকে অনুমোদন করা পূর্বে ভালভাবে যাচাই করে দেখবে ব্লগের পর্যাপ্ত পরিমানে কনটেন্ট আছে কি না।
০৩. Poor Quality কনটেন্টঃ
ব্লগে শুধুমাত্র পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকলেই হবে না, পোষ্টগুলি অবশ্যই ভালমানের হতে হবে। আপনি যেন-তেন কিছু লেখা ব্লগে ছাপিয়ে রেখেই পর্যাপ্ত কনটেন্ট রয়েছে মনেকরে Adsense পাওয়ার জন্য আবেদন করলে কিছুতেই অনুমোদন হবে না। আপনি যদি ব্লগিং শুরু করার পূর্বে মনেকরে থাকেন যে, ভবিষ্যতে আপনার ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্স ব্যবহার করে অনলাইন হতে আয় করবেন, তাহলে অবশ্যই এমন বিষয় নিয়ে লিখা শুরু করবেন যার মূল্য সার্চ ইঞ্জিনসহ সকল ধরনের পাঠকের কাছে রয়েছে। আপনার ব্লগে যখন ভালমানের কনটেন্ট থাকবে তখন ব্লগটি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হবে। যার ফলে গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার পথ সুগম হবে।
০৪. ইউনিক কনটেন্টঃ
এটি ব্লগিং এবং গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কমন ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই বিষয়টির ভীতরের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কেউই ভালভাবে বুঝতে চান না বা বুঝতে সক্ষম হন না। অনেকের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয় না যে, আসলে ইউনিক কনটেন্ট বলতে কি? বেশীরভাগ লোকই মনেকরে কারও ব্লগ থেকে কপি করা কনটেন্ট ব্যবহার না করলেই সেটি ইউনিক কনটেন্ট হয়। মূলত বিষয়টির পরিপূর্ণ অর্থ এ ভাবে হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার ব্লগের প্রত্যেকটি পোষ্ট অন্যের ব্লগ থেকে কপি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইউনিক কনটেন্ট বলতে সেটাকে বুঝাবে, যেটির বিষয়বস্তু অন্য কারও সাথে কোনভাবেই মিলছে না। এখন আপনি হয়ত বলবেন আমি যেহেতু কারও কোন কনটেন্ট কপি করিনি তাহলে কথাত এটাই হচ্ছে। এ জন্য আমি বিষয়টি উদাহরনের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার করছি।
ধরুন-আপনি হিন্দি সিনেমার রিভিউ নিয়ে ব্লগিং করেন। এ ক্ষেত্রে আপনি “দিলওয়ালে” সিনেমার একটি পূর্ণাঙ্গ রিভিউ নিজের ভাষায় বর্ণনা করলেন। তখন আপনি বলবেন এটি সম্পূর্ণ আপনার নিজের ভাষায় লিখা একটি ইউনিক কনটেন্ট, কিন্তু আপনি হয়ত জানেন না এর পূর্বে “দিলওয়ালে” সিনেমার পরিচালক তাদের অফিসিয়াল ব্লগে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিভিউ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনভাবেই আপনার কনটেন্ট ইউনিক হতে পারে না। এখানে তাদের অফিসিয়াল রিভিউ সবার কাছে হবে ইউনিক এবং সবচাইতে গ্রহনযোগ্য। এ ভাবে প্রত্যেকটা বিষয়ের ক্ষেত্রে একই অর্থ দাড়াবে। ইউনিক বলতে কেবল ঐ বিষয়টাকে বুঝাবে যেটি কারও সাথে কোনভাবেই মিলে না। আপনি যদি ২০/২৫ ইউনিক কনটেন্ট শেয়ার করতে পারেন তাহলে Google Adsense একাউন্ট অনুমোদন হবেই হবে।
০৫. অনুপযুক্ত কনটেন্টঃ
কিছু কনটেন্ট রয়েছে যেগুলি ব্যবহার করা Blogger Policy এর বাহিরে। যেগুলি ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের কনটেন্ট ব্যবহার করে যত ট্রাফিকই পান না কেন ব্লগের Adsense অনুমোদন হবে না। নিচে দেখুন-
- পর্ণগ্রাফি/Adult কনটেন্ট।
- হ্যাকিং বা ক্রাকিং টিপস।
- থার্ড পার্টি ভিডিও শেয়ারিং ব্লগ।
- বিভিন্ন মাদক জাতীয় দ্রব্যের প্রচার বা প্রসার।
- Alcohol দ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট করা।
- পরস্পর বিরোধী কনটেন্ট।
- মারাত্মক অস্ত্রের বিজ্ঞাপন।
০৬. পর্যাপ্ত ট্রাফিক না থাকাঃ
আপনার ব্লগে যদি পর্যাপ্ত ট্রাফিক না থাকে তাহলে কোনভাবেই Google Adsense অনুমোদন হবে না। ব্লগে যখন পর্যাপ্ত পরিমানে Organic ট্রাফিক থাকবে তখন খুব সহজেই এ্যাডসেন্স অনুমোদন হবে। কারন গুগল চায় এমন কাউকে এ্যাডসেন্স একাউন্ট দিতে যার ব্লগের মাধ্যমে তারা ভিজিটরদের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে লাভবান হতে পারে। আপনি যখন ভালভাবে SEO মেনে ভালমানের ইউনিক কনটেন্ট শেয়ার করবেন তখন ট্রাফিক অটোমেটিক্যালি বাড়তে থাকবে। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখবেন কোন প্রকার Paid Traffic মাধ্যমে ভিজিটর বৃদ্ধি করে কোন লাভবান হতে পারবেন না। যখন কোন প্রকার সোসিয়াল মিডিয়া ছাড়া শুধুমাত্র গুগল সার্চ ইঞ্জিন হতে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিজিটর পাবেন তখন Adsense আপনাকে সহজে অনুমোদন করবে।
০৭. ব্লগের ডিজাইন ভাল না হওয়াঃ
আপনি যখন কোন ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আগে আপনার দোকান বা ব্যবসার জায়গাটি ভালভাবে সাজিয়ে চক-চকে করে নেবেন। তারপর ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় উপকরন দোকানে বসাবেন। ব্লগের বিষয়টি ঠিক সে রকম। আপনার ব্লগটি যদি ভাল ডিজাইনের না হয় এবং Google Adsense কোড বসানোরমত পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে তাহলে কিছুতেই এ্যাডসেন্স অনুমোদন করবে না। কারণ আপনার ব্লগের প্রয়োজনীয় জায়গায় বিজ্ঞাপন বসিয়ে পরিষ্কারভাবে ভিজিটরদের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাতে না পারলে তাদের কোন লাভ হবে না। কাজেই ব্লগের ডিজাইন অবশ্যই Responsive, স্বচ্ছ এবং Adsense Ad ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে।
০৮. টপ লেভেলে ডোমেন ব্যবহার না করাঃ
বিশেষ করে এখনকার সময়ে Google AdSense অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে Domain অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অধীকাংশ নতুন ব্লগাররা তাদের ব্লগে ভালমানের ডোমেন ব্যবহার না করে Sub-Domain (Blogspot.com অথবা Wordpress.com) ব্যবহার করে Google AdSense এর জন্য আবেদন করেন। যার ফলে দেখা যায় গুগল তাদের আবেদন সরাসরি নাকুচ করে দেয়। তবে এক সময় ছিল যখন Sub-Domain দিয়েও খুব সহজে AdSense অনুমোদন করা সম্ভব হত, কিন্তু সম্প্রতি এ বিষয়টি বেশ কঠিন হয়েগেছে। কাজেই বিষয়টি সহজ করার জন্য ব্লগিং শুরু করার পূর্বে একটি ভালমানের Custom Domainকিনে নেয়াটাই উত্তম হবে।
০৯. Privacy Policy ও Terms of Service Inform না থাকাঃ
যে কোন ব্লগের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ Pages যেমন- About Us, Privacy Policy এবং Contact Us পেজ রাখা আবশ্যক। কারণ এগুলির মাধ্যমে Adsense আপনার ব্লগ সম্পর্কে জেনে নিয়ে নিশ্চিত হতে পারবে আসলে ব্লগটার Owner আপনি কি না। কয়েক বৎসর আগে Google AdSense Team একটি নিয়ম করেছিল যে, প্রত্যেকটি ব্লগের অবশ্যই Privacy Policy পেজ রাখতেই হবে। তারই নিয়মে অবশ্যই বাকি পেজগুলিও রাখাটা ভাল।
১০. অন্য বিজ্ঞাপন ব্যবহারঃ
আপনি যদি ব্লগে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে Google Adsense এ আবেদন করার সময় অবশ্যই সেগুলি Remove করে নিবেন। কারণ Google Adsense Team আপনার ব্লগটি রিভিউ করার সময় কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পেলে Adsense অনুমোদন করবে না। তাছাড়া এটি Adsense Policy এর আওতায়ও পড়ে না।
Advanced ট্রিকসঃ
এ ছাড়াও Google Adsense অনুমোদন না হওয়ার আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেগুলি সম্পর্কে এখন বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়। নিচে আমরা সংক্ষেপে বিষয়গুলি তুলে ধরছি।
- আবেদনকারীর বয়স ১৮ বৎসর না হওয়া।
- Evil সাইটে ব্লগের লিংক করা থাকলে।
- সাইট Malware এ আক্রান্ত হলে।
- ব্লগটির প্রকৃত মালিক নিজে না হলে।
- ব্লগের Navigation সহজে বুঝা না গেলে।
- বাচ্ছাদের Privacy Protection Act এর বহিঃভূত হলে।
- ব্লগের কনটেন্টের ভাষা সাপোর্ট না করলে।
- পূর্বে কখন Adsense Account ব্যান হলে।
- সঠিকভাবে Adsense Policy অনুসরণ না করলে।
সর্বশেষঃ যারা ইতিপূর্বে Google Adsense এ Apply করে অনুমোদন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা উপরের টিসগুলি ভালভাবে পড়লে পূর্বে আপনি কোথায় ভূল করেছেন সেটি সহজে Find Out করতে পারবেন। অন্যদিকে যারা এখন Adsense এ Apply করেননি তারা এই টিপসগুলি অনুসরণ করলে খুব সহজে প্রথমবারেই অনুমোদন করতে সক্ষম হবেন।































































